ফেনী    সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী
বাখরাবাদের কর্মচারীর ৮ বছরের কারাদণ্ড

বাখরাবাদের কর্মচারীর ৮ বছরের কারাদণ্ড

ফেনীতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুকে আট বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।গতকাল রোববার (১২ জুলাই) নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। অভিযুক্ত খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বক্তারমুন্সী রাজাপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেন কানুনগোর ছেলে।দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন দৈনিক ফেনীকে এসব তথ্য জানান।দুদক সূত্রে জানা যায়, খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের গৌরীপুর কার্যালয়ে বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি কেনেন। একই সঙ্গে একটি বাড়ি নির্মাণে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান। তবে প্রকৌশলীর মূল্যায়নে ওই বাড়ির নির্মাণ ব্যয় পাওয়া যায় ৬১ লাখ ৭ হাজার ৯৯ টাকা। এতে নির্মাণ ব্যয়ের ২৬ লাখ ৮৯ হাজার ৬০৮ টাকার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।এ ছাড়া সোনাগাজী উপজেলার রামপুর মৌজায় একটি তিনতলা মার্কেট নির্মাণে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। দুদকের তদন্তে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণসহ অন্যান্য সম্পদের হিসাব পর্যালোচনা করে খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তাকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আরও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। দুদকের নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে পৃথক দুই ধারায় মোট মেয়াদ ৮ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 
১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ এএম



দুই মাস ধরে খোলা মুহুরী রেগুলেটরের ৪০ জলকপাট

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক রাখা এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের লক্ষ্যে সোনাগাজী উপজেলার ফেনী রেগুলেটরের (মুহুরী সেচ প্রকল্প) ৪০টি জলকপাট গত দুই মাস ধরে খোলা রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খালের সঙ্গে সংযুক্ত ১০টি অভ্যন্তরীণ স্লুইস গেটও খোলা রাখা হয়েছে, যাতে লোকালয়ের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহাম্মদ জানান, সাধারণত প্রতি বছর নভেম্বর মাসে রেগুলেটরের গেটগুলো বন্ধ করা হয় এবং ধানের মৌসুমে সেচ সুবিধার জন্য এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এপ্রিলের শেষ দিকে গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেগুলো খোলাই রয়েছে।তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কেউ কেউ প্রচার করছেন পানির চাপে গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সঠিক নয়। এটি সম্পূর্ণ নিয়মিত পরিচালনা কার্যক্রমের অংশ।জোয়ারের সময় গেট বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, জোয়ারের সময় ফেনী নদীর দিক থেকে যাতে উল্টো প্রবাহে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য ফ্ল্যাপ গেটগুলো পানির চাপের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। জোয়ার শেষ হলে এবং পানির চাপ কমে গেলে গেটগুলো আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায়।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার তথ্য অনুযায়ী মুহুরী নদীর পানির স্তর ছিল ৯ দশমিক ৮৬ মিটার, যা এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে মুহুরী রেগুলেটর এলাকায় পানির স্তর ছিল ২ দশমিক ৮০ মিটার, যা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।এদিকে বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খালের সঙ্গে সংযুক্ত ১০টি অভ্যন্তরীণ স্লুইস গেটও খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, ফেনী নদী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ হ্রাস এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে মুহুরী সেচ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। মূলত এই পথ দিয়েই অতিরিক্ত পানি বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। প্রকল্পের পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো (রেগুলেটর) ৪০টি ভেন্টবিশিষ্ট, যার মাধ্যমে নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

দুই মাস ধরে খোলা মুহুরী রেগুলেটরের ৪০ জলকপাট
১৭ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন