ফেনী    রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী
ফেনীসহ ১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় বিজিবি মোতায়েন

ফেনীসহ ১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তায় বিজিবি মোতায়েন

দেশে টানা কয়েকদিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে দেশের ১১টি উপদ্রুত জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা, জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীকে মাঠে নামানো হয়েছে। আজ রোববার (১২ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করা, তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা, খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বিজিবি। মোতায়েনকৃত এই ১১টি জেলা হলো— কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর।বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগের সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিখুঁত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই ১১টি জেলার মোট ৯০টি পয়েন্টে বিশেষ সেল ও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে যেখানেই জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানেই বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করছেন।বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবির সাম্প্রতিক কিছু উদ্ধার অভিযানের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে ইতোমধ্যে আটকে পড়া ১১৬ জন দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে সফলভাবে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে এসেছে বিজিবি। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গত মানুষদের মাঝে নিয়মিত শুকনো ও রান্না করা খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি, পাহাড়ি ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করতে উপড়ে পড়া বড় বড় গাছ ও মাটির ধ্বংসাবশেষ অপসারণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে বিজিবির উদ্ধারকারী দল। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রবল স্রোত ও ভূমিক্ষয়ের কারণে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া একটি স্টিলের সেতু ধসে পড়া থেকে রক্ষা করতে জরুরি প্রতিরোধমূলক বালুর বস্তা ও জিও ব্যাগ ফেলে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা।
১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম



দুই মাস ধরে খোলা মুহুরী রেগুলেটরের ৪০ জলকপাট

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক রাখা এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের লক্ষ্যে সোনাগাজী উপজেলার ফেনী রেগুলেটরের (মুহুরী সেচ প্রকল্প) ৪০টি জলকপাট গত দুই মাস ধরে খোলা রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খালের সঙ্গে সংযুক্ত ১০টি অভ্যন্তরীণ স্লুইস গেটও খোলা রাখা হয়েছে, যাতে লোকালয়ের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহাম্মদ জানান, সাধারণত প্রতি বছর নভেম্বর মাসে রেগুলেটরের গেটগুলো বন্ধ করা হয় এবং ধানের মৌসুমে সেচ সুবিধার জন্য এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এপ্রিলের শেষ দিকে গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেগুলো খোলাই রয়েছে।তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কেউ কেউ প্রচার করছেন পানির চাপে গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সঠিক নয়। এটি সম্পূর্ণ নিয়মিত পরিচালনা কার্যক্রমের অংশ।জোয়ারের সময় গেট বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, জোয়ারের সময় ফেনী নদীর দিক থেকে যাতে উল্টো প্রবাহে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য ফ্ল্যাপ গেটগুলো পানির চাপের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। জোয়ার শেষ হলে এবং পানির চাপ কমে গেলে গেটগুলো আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায়।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার তথ্য অনুযায়ী মুহুরী নদীর পানির স্তর ছিল ৯ দশমিক ৮৬ মিটার, যা এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে মুহুরী রেগুলেটর এলাকায় পানির স্তর ছিল ২ দশমিক ৮০ মিটার, যা স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।এদিকে বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খালের সঙ্গে সংযুক্ত ১০টি অভ্যন্তরীণ স্লুইস গেটও খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।উল্লেখ্য, ফেনী নদী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ হ্রাস এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে মুহুরী সেচ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। মূলত এই পথ দিয়েই অতিরিক্ত পানি বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। প্রকল্পের পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো (রেগুলেটর) ৪০টি ভেন্টবিশিষ্ট, যার মাধ্যমে নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

দুই মাস ধরে খোলা মুহুরী রেগুলেটরের ৪০ জলকপাট
১৭ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন