ফুলগাজীর আমজাদহাটে পুলিশের হাত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলার মূলহোতা কবির আহম্মদ প্রকাশ জাল কবিরসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট গ্রহণ করা হয়েছে। গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদ মাহমুদের আদালতে এ মামলার চার্জশীট গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। তবে এখনো এখনো উদ্ধার করা যায়নি সেই হ্যান্ডকাফ ও অধরা রয়ে গেছে এ ঘটনার মূলহোতা কবির আহম্মদ প্রকাশ জাল কবির। এ মামলায় চারবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রেজোয়ানুল ইসলাম জানান, এ মামলায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে গত ১১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশীট জমা দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। তিনি আরও জানান, এ মামলায় গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর জাল কবির ও নজরুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন পান। তারা নিম্ন আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছাগলনাইয়া থানায় করা একটি নারী নির্যাতন মামলার আসামি ছিলেন ফুলগাজীর আমজাদহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাল কবির। গত বছরের ১৫ জুলাই রাতে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করতে আমজাদহাটের উত্তর ধর্মপুর গ্রামে অভিযান চালায়। তাকে গ্রেপ্তার করলে ঘটনাস্থলে তার সহযোগী রাকিবসহ অন্য স্বজনরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র পুলিশের উপর হামলা করে। এসময় হ্যান্ডকাফসহ জাল কবির পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযানে যাওয়া ছাগলনাইয়া থানার তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার পরদিন ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রাফিদুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা করেন। সেদিন রাতে অভিযান পরিচালনা করে হামলাকারী ছয়জন ও পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান ফুলগাজীর থানার উপপরিদর্শক যশমন্ত মজুমদার। তিনি ২৭ জুলাই পর্যন্ত তদন্ত করেন। এরপর একই থানার পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। তারপর মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. ফরহাদ আলী। পরে গত বছরের ৩০ অক্টোবর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সর্বশেষ গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রেজোয়ানুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে গত ১১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশীট জমা দিয়েছেন। তিনি এ মামলায় ২০ জনকে সাক্ষী করেছেন।
