কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইজনকে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে সালেহ আহমেদ মেম্বার (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে ২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, নিহত সালেহ আহমেদ উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে হতাহতের ঘটনায় নিহতদের একজন। ওই ঘটনায় একই গ্রামের মো. রিয়াদ (৩৩), রিয়াদের মা সাফা (৫০) এবং এনামুল নামে আরও ৩ ব্যক্তিকে আহতাবস্থায় চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বজনরা।
ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত সালেহ আহমেদের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে এবং তার পায়ের রগ কাটা রয়েছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুল ইসলাম আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আহতদের দেহেও একই ধরনের আঘাত রয়েছে। নিহত সালেহ আহমেদের মরদেহ ফেনী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আলিয়ার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় নিহত অপরজন হলেন দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ওরফে নয়ন (৪০)। তিনি সম্পর্কে সালেহ আহমেদের ভাতিজা। তাঁরা একই গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য প্রয়াত ছালেহ আহম্মদের গোষ্ঠীর সদস্য।
এ হামলার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এর আগে গত বছরের ৩ আগস্ট গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর মো. আলাউদ্দিনকে (৫৫) বাড়ির সামনে থেকে তুলে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। আলাউদ্দিন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
একাধিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার তারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। ছালেহ আহম্মদ ও খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর মধ্যে গত বছরের ২৫ জুলাইও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন দফায় দফায় সংঘর্ষে ১৫ জন ছররা গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর ৩ আগস্ট সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে এনে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
ওই হত্যাকাণ্ডের পর ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্যরা দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে বাইরে অবস্থান করেন। ৩ জানুয়ারি ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্যরা এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে খুন হওয়া আলাউদ্দিনের পক্ষের লোকজন তাঁদের বাধা দেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকে বারবার শান্ত থাকতে বলা হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ দুপুরে খায়ের আহমেদ গোষ্ঠীর সদস্যরা ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর হামলা ও গুলি চালায় বলে অভিযোগ। এতে দুজন নিহত হন।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা থেকে পলাতক। তাঁদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তিদের ওপর ছররা গুলি চালানো হয়েছে। এ ছাড়া হাত ও পায়ের রগ কাটার চিহ্ন আছে।
