ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বাকী আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে একটি নয়, দিতে হবে দুটি ভোট। সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার পাশাপাশি ভোটাররা দেবেন গণভোটও। নির্বাচনী ব্যালটে যেখানে বিভিন্ন দলের প্রতীক থাকে, সেখানে গণভোটে থাকবে দুটি অপশন। ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের মত জানাবেন।

নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রধান ধাপ জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা এনআইডি কার্ড থাকা। কিন্তু যারা এনআইডি নম্বর পেয়েছেন কিন্তু কার্ড হাতে পাননি তারা কি ভোট দিতে পারবেন— এমন প্রশ্ন আসতেই পারে। এর উত্তর হলো হ্যাঁ, ভোট দিতে পারবেন। অনেকে হয়ত এনআইডি নম্বর আছে কিংবা কার্ড অতীতে ছিল। ভোটের দিন দেখা গেল কোনওভাবে সেই প্লাস্টিকের কার্ড কিংবা স্মার্ট কার্ড কোনোটাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। 

ভোটার তালিকায় আপনার নাম ও ছবি থাকলে এবং পোলিং অফিসার আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলে আপনি ভোট দিতে পারবেন।

ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে যা জানতে হবে

১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। আপনাকে প্রথমে জানতে হবে আপনার সঠিক ভোটকেন্দ্র কোনটি এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর। এটি জানা থাকলে আপনার সময় বাঁচাবে এবং বিভ্রান্তি এড়াবে।

এসব তথ্য সহজে জানতে নির্বাচন কমিশনের ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করে আপনার ভোটকেন্দ্র, ভোটার নম্বর এবং ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য হটলাইন নম্বরে (১০৫) কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ পদ্ধতিতে তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে।

এছাড়া এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। এ জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘পিসি এনআইডি’ (PC NID) লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া

ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রথমে পোলিং অফিসার আপনার নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে দেখবেন। সব ঠিক থাকলে এরপর আপনার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য কোনো আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন। এরপর প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার আপনাকে দুটি ব্যালট পেপার দেবেন (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট)। ব্যালট পেপারের পেছনে অবশ্যই অফিশিয়াল সিল এবং প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কিনা দেখে নেবেন।

ব্যালট পেপার নিয়ে আপনি ভোটদানের জন্য নির্ধারিত গোপন কক্ষে যাবেন। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং আপনার ভোটটি যেন বাতিল না হয়, সে জন্য ব্যালট ভাঁজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট করে সিল দিন। গণভোটে হ্যাঁ/না ভোট আলাদা ব্যালটে সিল দিন।

সিল মারার পর ব্যালট পেপার এমনভাবে ভাঁজ করুন যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকের ওপর না লাগে। সাধারণত লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করা নিরাপদ।

ভাঁজ করা ব্যালট পেপারটি উন্মুক্তস্থানে রাখা সংশ্লিষ্ট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলুন এবং দেরি না করে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করুন।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেহেতু ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে না সেহেতু ভোট হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে, অর্থাৎ কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সে। ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল তথ্য আদান-প্রদান ও প্রশাসনিক সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, ভোট দেওয়ার জন্য নয়।