জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলে ভোটকে উৎসবমুখর করতে প্রার্থীদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’ বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলার তিনটি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, নির্বাচন যেন উৎসবমুখর হয় ও ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন সেজন্য সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা প্রয়োজন। আচরণবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানাতে হবে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ইলেকশন ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম নির্বাচনী আচরণবিধি, প্রচার-প্রচারণায় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় এবং নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা সম্পর্কে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে অবহিত করছে। প্রতি ভোটার ও আসনভিত্তিক ব্যয়ের সীমা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।
সভায় জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়ে প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীদের অবহিত করা হয়েছে। ২০০৮ সালের পর থেকে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারছে না। এখন সময় এসেছে ভোটের পরিবেশ আনন্দঘন করার। এজন্য ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
এবি পার্টির সদস্য সচিব ফজলুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি সম্পর্কে সকলকে জানানো হয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য নিয়মনীতি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. নবী নেওয়াজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ কে এম ফয়সাল ও সহকারী কমিশনার চয়ন বড়ুয়া।
রাজনৈতিক নেতা ও প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও ফেনী-১ আসনে দলীয় প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু, জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আকবর হোসেন, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা আজিজ উল্লাহ আহমদী প্রমুখ।
