আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হলেও মাঠে সক্রিয়ভাবে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। দলীয় কর্মসূচি, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতায় এ দলগুলোর প্রার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের তেমন কোনো কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে ২৬ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। বিএনপি, জামায়াত, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক, মতবিনিময় ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন উপজেলায় দলীয় কার্যালয় কেন্দ্রিক কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতির খবরও মিলছে।

ফেনী-১ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। এরমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন। এ আসনে আরও ৫ জন প্রার্থী থাকলেও প্রচারণার মাঠে তাদের সক্রিয় দেখা যায়নি।

অন্যদিকে ফেনী-২ আসনে ১১ জন প্রার্থী রয়েছে। এ আসনে প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী একরামুল হক ভূঁঞা। তারা নিয়মিত পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ করছেন এবং ভোটারদেএ ধারে ধারে ঘুরছেন। এ আসনে গণ অধিকারে প্রার্থী তারিকুল ইসলামকেও প্রচার প্রচারণায় দেখা গেছে তবে অন্যান্য প্রার্থীদের প্রচারণা দেখা মেলেনি।

ফেনী-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।এরমধ্যে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিককে প্রচার প্রচারণা, সভা সমাবেশ করতে দেখা গিয়েছে। তবে অন্যান্য প্রার্থীদের এখন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি।

স্থানীয় রাজনীতিকরা বলছেন, নির্বাচনী আচারণবিধিসহ নানা বিষয়ে পরিবর্তন আসাতে এখনও ভোটের আমেজ শুরু হয়নি। দিন যত গড়াবে অন্যান্য প্রার্থীরাও ভোটের মাঠে সক্রিয় হবে।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী মাঠে সব দলের সক্রিয় উপস্থিতি না থাকায় ভোটের আমেজ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। হাসান আহমেদ নামে একজন বলেন, বিএনপি আর জামায়াতের লোকজনকে মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু অন্যদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

মাঠে বিএনপি-জামায়াত জোট

ফেনীতে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হয়ে ওঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের নেতাকর্মীরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। প্রচারণা কার্যক্রমে মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও।

নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটছে বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। গতকাল বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচনে এখনো লেভেল প্লেয়িং নিশ্চিত হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় হামলা করা হয়েছে, ঢাকা শহরে নারীদের আঘাত করা হয়েছে, সেদিন চট্টগ্রামে অভিযানে গিয়ে এক র‌্যাব সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা আরও বহু জায়গায় ঘটছে। আমাদের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বড় দল, ছোট দল, মাঝারি দল-এমন বিভেদ করবে না বলে প্রশাসন আশ্বস্ত করেছেন। প্রত্যেক প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের নিরাপত্তাসহ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আমরা নির্বাচনের ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থান নিতে বাধ্য হব।

ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভোমত্ব রক্ষায় এবং এ দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিএনপি ছাড়া অন্যকোন বিকল্প নেই। একমাত্র বিএনপি এদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে পারবে। বিএনপির বিকল্প কোন দল নেই যে এ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিবে। দেশকে এগিয়ে নিতে, দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্য আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে এ দেশের প্রধানমন্ত্রী করতে হবে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, আমরা সবজায়গায় মানুষদের কাছে যাচ্ছি। মানুষ বিএনপিতে আস্থা রাখছে, যেখানেই যাচ্ছি সাড়া পাচ্ছি। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

জামায়াতের ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও দখল বাণিজ্যর কবর রচনা করতে চাই। আগামীতে মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে জামায়াত ইসলামী বদ্ধপরিকর।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী একরামুল হক ভূঁঞা বলেন, আমি মানুষের ধারে ধারে যাচ্ছি, মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে বাংলার মসনদে শরীয়াহ বাস্তবায়ন করবে। আগে ইসলাম পরে রাজনীতি। সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করছে, আমি আশা করছি জামায়াতের ও অনেক ভোট আমি পাব।