সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ করেছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। এ নিয়ে আবারও উপজেলা বিএনপি দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিনের চলমান দ্বন্ধ নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
এর আগে, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদীন বাবলু ও সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঁঞা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এদিকে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অগঠনতান্ত্রিকভাবে উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন সেন্টু নবাবপুর ইউনিয়নে একটি পাল্টা কমিটি দিয়ে দলে বিভাজন তৈরি করেছেন। যা বিএনপির গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। কমিটি দেওয়ার ক্ষমতা বা এখতিয়ার তার নেই। এটি অসৎ উদ্দেশ্যে ও দলকে বিভক্ত করার অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, দলীয় গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে আমরা কমিটি দিয়েছি। আমরা যে কমিটি দিয়েছি সেই কমিটি নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আমরা বিদ্রোহী কোন কমিটির অস্তিত্ব স্বীকার করিনা। এ ব্যাপারে সকলকে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন সেন্টু দৈনিক ফেনীকে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে তারাই বিভাজনমূলক নির্বাচন কমিটি ঘোষণা করেছিল। আমরা প্রার্থীকে উভয়পক্ষ থেকে সমন্বয় করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করে দিতে বলেছিলাম, কিন্তু করা হয়নি। যারা আমাকে ছোট করার জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সেই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নিজেরা স্বাক্ষর করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করার এখতিয়ার রাখে না। প্রকৃতপক্ষে এই অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার রাখে একমাত্র আমাদের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। আমাদের পরিকল্পনা ছিল নয় ইউনিয়ন ও পৌরসভার আলাদা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি দেব। কিন্তু একটি দিতেই তাদের গায়ের জালা শুরু হয়ে গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন সেন্টু এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা ও সৈয়দ আলম ভূঞার মধ্যে অপ্রকাশ্য বিরোধ ছিল। সর্বশেষে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের একক স্বাক্ষরিত সোনাগাজী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কমিটি ঘোষণার পর বিএনপির একাংশের (সেন্টু পক্ষের) নেতাকর্মীরা একপক্ষীয় পরিবারতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক কমিটি করা হয়েছে দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এর মধ্য দিয়ে দুইপক্ষে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। সেন্টুর অনুসারীদের দাবি, এ কমিটি করে তাদের বিভিন্ন দিক থেকে কোণঠাসা ও বঞ্চিত করা হচ্ছে। সকল মনোমালিন্য ও বিভাজনকে মাথায় না রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা বলেন, তারা প্রার্থীর সাথে নিয়মিত দেখা করে এবং কথা বলে। দলীয় সকল কার্যক্রমে জামাল উদ্দিন সেন্টু অংশগ্রহণ করে বক্তব্য দেন। কী থেকে তারা বঞ্চিত আমরা তো বুঝছি না। তারা কাজ না করতে পারলে সেটি তাদের ব্যর্থতা।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব সোহাগ নূর বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে এই নির্বাচনে যতটুকু কাজ করছি নিজ থেকে করছি। দলীয়ভাবে কোন দায়িত্ব দিচ্ছে না। আমরা প্রার্থীকে জানানোর পর তিনি আমাদের কাজ করে যেতে বলেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদীন বাবলু বলেন, তারা বঞ্চিত বিষয়টি সত্য নয়। তিনি (সেন্টু) দলীয় সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন, বক্তব্যও রাখেন। সকলে দেখুক তিনি কী থেকে বঞ্চিত। প্রকৃতপক্ষে তিনি নির্বাচনি কমিটি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না।
জাতীয় নির্বাচনে এসব দলীয় কোন্দল কোন প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাময়িক বিশৃঙ্খলার কারণে ফাইনালি নির্বাচনে কোন প্রভাব পড়বে না।
