আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফেনী জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী তরুণ ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার তালিকার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন তরুণ ভোটাররা। তাদের অনেকেই ভোটার হওয়ার পর এবারই প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশ গঠনের অংশীদার হতে চান তারা। নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথাই তুলে ধরেছেন দৈনিক ফেনীর নিজস্ব প্রতিবেদক এম এ আরাফাত
পরিবর্তনের আশায় ভোট দেবে তরুণরা
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় প্রতিটি নির্বাচনই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এবারের নির্বাচন তরুণদের জন্য আলাদা তাৎপর্য বহন করে। কারণ এবার বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। তাদের কাছে ভোট শুধু একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়, বরং পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
বর্তমান তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সচেতন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তারা দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত। কর্মসংস্থানের সংকট, শিক্ষাব্যবস্থার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এসব বিষয় তাদের ভাবনায় গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে। তাই তাদের ভোট আবেগের নয়, বরং বিবেচনার ভোট।
তরুণ ভোটাররা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে যারা কথা নয়, কাজের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করবে। তারা চায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায্যতার রাজনীতি। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া একজন তরুণ জানে, একটি ভুল সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎকে পিছিয়ে দিতে পারে, আবার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।
এই তরুণদের ভোট যদি সচেতনভাবে প্রয়োগ হয়, তাহলে তা শুধু একটি সরকার গঠনে নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তাই তরুণদের প্রথম ভোটকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এটি হতে পারে পরিবর্তনের সূচনা।
—নুরুল আমিন সজিব
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ফেনী ইউনিভার্সিটি
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ যেমন দেখতে চাই
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে? এই প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়, এটি প্রজন্মগত এক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। আমরা, আজকের তরুণরা, আগামী রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক, প্রশাসক ও নাগরিক। তাই আমাদের স্বপ্ন আবেগের নয়, বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে গড়া। আমরা আবেগনির্ভর পরিবর্তন চাই না; আমরা চাই কাঠামোগত সংস্কার। আমরা চাই এমন এক রাষ্ট্র, যেখানে আইন, নীতি ও ন্যায়—এই তিনটি হবে শাসনের ভিত্তি।
প্রথমত, আমরা চাই কার্যকর আইনের শাসন। আইনের শাসন মানে কেবল আইন প্রণয়ন নয়, বরং তার নিরপেক্ষ প্রয়োগ। রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। এর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। নির্বাহী প্রভাবমুক্ত, মেধাভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং জটমুক্ত একটি বিচারব্যবস্থা ছাড়া ন্যায়বিচার সম্ভব নয়। দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনে।
দ্বিতীয়ত, আমরা চাই কার্যকর গণতন্ত্র, যেখানে সরকারকে সমালোচনা করা রাষ্ট্রদ্রোহ নয়। যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন কখনোই মতপ্রকাশ দমনের হাতিয়ার না হয়। বাকস্বাধীনতা হোক তা ক্যাম্পাসে, সংবাদমাধ্যমে বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে—রাষ্ট্রের শক্তি বাড়ায়, দুর্বল করে না। ২৪ এর জুলাই এ উপস্থাপিত প্রতিটি স্লোগান—ঐ শব্দগুলো প্রতিবাদের ভাষা; সেগুলোকে ভয় নয়, বোঝার চেষ্টা করা উচিত। একই সঙ্গে প্রয়োজন ডিজিটাল স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা—যেখানে সাইবার আইন অপব্যবহার হবে না এবং ভিন্নমতকে সহ্য করার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
তৃতীয়ত, দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা যদি নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস্তবিক স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়।
চর্ত্থুত, আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু মানবিক উন্নয়ন। অবকাঠামো দৃশ্যমান; কিন্তু নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থান ও মেধার মূল্যায়ন না হলে উন্নয়ন টেকসই হয় না। মেধাপাচার রোধ করতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
পঞ্চমত, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা প্রয়োজন। গ্যাস সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক মূল্য, চোরালাইন উচ্ছেদ ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা এসব সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বস্তির বিষয়। একইভাবে বাজারে দ্রব্যমূল্য ভারসাম্যপূর্ণ রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যাতে খেটে খাওয়া মানুষ ন্যূনতম নিরাপত্তায় জীবনযাপন করতে পারে।
ষষ্ঠত, অনুমোদনবিহীন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার বিস্তার শিক্ষার মান কমিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদনে কঠোর মানদণ্ড ও নিয়মিত তদারকি অপরিহার্য। পাশাপাশি নীতিনির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে—যুব সংসদ, পাবলিক হিয়ারিং এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক নীতি গবেষণার মাধ্যমে।
সপ্তমত, পরিবেশ ও দুর্বল গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এই দেশে পরিবেশ সুরক্ষা কেবল নীতি নয়, অস্তিত্বের প্রশ্ন। নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আইনের শাসন অর্থহীন হয়ে পড়ে।
সবশেষে, তরুণরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে যেখানে রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে আইন প্রয়োগে, কিন্তু সহনশীল হবে মতপ্রকাশে, উন্নত হবে অর্থনীতিতে, কিন্তু মানবিক হবে আচরণে, দৃঢ় হবে নীতিতে, কিন্তু নমনীয় হবে যুক্তির সামনে। আমরা আবেগপ্রবণ প্রজন্ম নই আমরা সাংবিধানিকভাবে সচেতন প্রজন্ম। আমরা রাষ্ট্রকে ভাঙতে চাই না, সংস্কার করতে চাই। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে ন্যায়, জবাবদিহি ও মর্যাদার উপর দাঁড়ানো একটি রাষ্ট্র—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
—কাজী সুমাইয়া
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ফেনী ইউনিভার্সিটি
তরুণরাই নির্ধারণ করবে আগামীর রাজনীতি
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নেতৃত্ব হঠাৎ করে তৈরি হয় না, এটি গড়ে ওঠে নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে। আর সেই অংশগ্রহণের সবচেয়ে সরল কিন্তু শক্তিশালী মাধ্যম হলো ভোট। একজন ভোটার যখন ব্যালট চিহ্নে নিজের রায় দেয়, তখন সে কেবল একজন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে না, বরং একটি নীতি, একটি দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি ভবিষ্যৎ পথকে সমর্থন করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণরাই এখন ভোটার তালিকার বড় একটি অংশ। এই প্রজন্ম প্রযুক্তি-সচেতন, তথ্য নির্ভর এবং আগের চেয়ে বেশি প্রশ্ন করতে শিখেছে। তারা শুধু পরিচিত মুখ বা আবেগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না, বরং প্রার্থীর কাজ, পরিকল্পনা, সততা ও জবাবদিহিতা বিবেচনা করতে আগ্রহী। ফলে তাদের ভোটের ধরণই আগামী দিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্ধারণ করতে পারে।ভোটের মাধ্যমে তরুণরা এক ধরনের বার্তা দেয় যে তারা কেমন নেতৃত্ব চায়। যদি তারা দেশের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আইনের শাসনকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলোও বাধ্য হবে সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম নেতৃত্ব সামনে আনতে। অর্থাৎ সচেতন ভোট ভবিষ্যতের যোগ্য নেতার জন্য পথ তৈরি করে। অনেকে মনে করে রাজনীতি থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে উদাসীনতা কখনোই ভালো নেতৃত্ব তৈরি করে না। যখন সচেতন মানুষ ভোট দিতে অনাগ্রহী হয়, তখন সিদ্ধান্তের জায়গা দখল করে নেয় অযোগ্যতা ও স্বার্থান্বেষী প্রবণতা। তাই ভোট দেওয়া কেবল অধিকার নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব যা নিজের এবং দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত।
আজকের তরুণ ভোটারই আগামী দিনের নাগরিক নেতৃত্বের ভিত্তি। তাদের অংশগ্রহণ, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করবে আগামী প্রজন্ম কেমন রাষ্ট্র পাবে। তাই ভোট শুধু একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ।
—মিজানুর রহমান
আইন বিভাগ, শিক্ষার্থী, ফেনী ইউনিভার্সিটি
স্বচ্ছ নির্বাচন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যা হারাবে
একটি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার গণতান্ত্রিক ভিতের ওপর। আর সেই ভিতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, এটি মানুষের মত প্রকাশের অধিকার, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। কিন্তু যখন নির্বাচন স্বচ্ছ হয় না, তখন তার প্রভাব শুধু বর্তমানেই সীমাবদ্ধ থাকে না—এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির বোঝা বইতে হয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। প্রথমেই যে ক্ষতিটি হয়, তা হলো গণতন্ত্রের ওপর আস্থাহীনতা। তরুণরা যখন দেখে যে ভোট দিয়েও ফল বদলায় না, তখন তাদের মনে প্রশ্ন জাগে—‘ভোট দিয়ে লাভ কী?’ এই প্রশ্ন থেকেই জন্ম নেয় রাজনৈতিক অনাগ্রহ ও নিষ্ক্রিয়তা। একটি প্রজন্ম যদি শুরুতেই গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস হারায়, তবে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্বচ্ছ নির্বাচন না হলে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয় না। ক্ষমতায় আসে এমন মানুষ, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে অভ্যস্ত নয়। এর ফল ভোগ করে তরুণ সমাজ ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা, ন্যায্য চাকরি ও সমান সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হয়। মেধা নয়, পরিচয় ও ক্ষমতা হয়ে ওঠে সাফল্যের মানদণ্ড। এতে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ভেঙে যায়, পরিশ্রমের মূল্যহীনতা তাদের হতাশ করে তোলে। এর সঙ্গে জড়িত আরেকটি বড় ক্ষতি হলো কর্মসংস্থানের সংকট ও মেধা পাচার। যখন রাষ্ট্রে ন্যায্যতা থাকে না, তখন তরুণরা দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবে। তারা মনে করে, এই দেশে তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। একটি জাতি তখন ধীরে ধীরে তার সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পদ তরুণ মেধা হারাতে শুরু করে।
স্বচ্ছ নির্বাচন না থাকলে নাগরিক দায়িত্ববোধও দুর্বল হয়ে পড়ে। মানুষ আইন মানতে অনাগ্রহী হয়, কারণ তারা মনে করে আইন সবার জন্য সমান নয়। এতে সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও সহিংসতা বাড়ে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় হয় এক ধরনের ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষার্থীরা যে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, তা কেবল উন্নয়ন প্রকল্প দিয়ে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে জনগণের ভোটের মূল্য আছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, এবং নেতৃত্ব আসে জনগণের প্রকৃত রায়ের মাধ্যমে।
পরিশেষে বলা যায়, স্বচ্ছ নির্বাচন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু একটি ভোটাধিকারই হারায় না-তারা হারায় বিশ্বাস, সুযোগ, নিরাপত্তা ও স্বপ্ন। তাই নির্বাচনকে স্বচ্ছ রাখা কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষার শপথ।
— মারজাহান আক্তার মিতু
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ফেনী ইউনিভার্সিটি
নির্বাচিত সরকার তরুণদের নিয়ে কাজ করবে
নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দেশের রাজপথ যেমন ব্যানার ও পোস্টারে ভরে ওঠে, তেমনি আলোচনার উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের আড্ডাতেও। ক্লাসের ফাঁকে, ক্যান্টিনের টেবিলে কিংবা হলের নিরিবিলি বারান্দায় নির্বাচন নিয়ে কথা ওঠে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই। কারণ শিক্ষার্থীরা জানে রাজনীতির সিদ্ধান্তগুলো শুধু সংসদের দেয়ালে আটকে থাকে না; সেগুলোই একসময় প্রভাব ফেলে তাদের পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং সামগ্রিক ভবিষ্যতের ওপর।
এই প্রজন্ম বড় হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির ভেতর দিয়ে। এক ক্লিকেই তারা দেশের খবরের পাশাপাশি বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহও দেখে ফেলে। ফলে কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শুনলেই তারা প্রশ্ন তোলে এটা কতটা বাস্তবসম্মত? আগে কী হয়েছে? এবার আসলেই কি কিছু বদলাবে? তাদের কাছে নির্বাচন মানে কেবল স্লোগান বা পোস্টার নয়; বরং বাস্তব জীবনের হিসাবুনিকাশ, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এবং নিজের অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে সেই ভাবনা। একজন শিক্ষার্থী যখন শেষ বর্ষে পৌঁছায়, তখন তার মাথায় সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘুরপাক খায় পড়াশোনা শেষে কী হবে? চাকরি, উচ্চশিক্ষা, নাকি দীর্ঘ অনিশ্চয়তা? বাস্তবতা হলো, অনেকের ডিগ্রি আছে, যোগ্যতা আছে, তবুও সুযোগ সীমিত। এই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষার্থীরা এমন একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে, যেখানে মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তাই নির্বাচন এলেই তারা ভাবে নতুন নেতৃত্ব কি এই বাস্তবতা বদলাতে পারবে? তবে স্বপ্নের পাশাপাশি কিছু শঙ্কাও নীরবে কাজ করে। অনেক শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন জাগে আমার ভোট কি সত্যিই মূল্য পাবে? নির্বাচন কি সবার জন্য সমান ও নিরাপদ হবে? এই অনিশ্চয়তা তাদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি করে। তবুও তারা পুরোপুরি হতাশ নয়; বরং পরিবর্তনের সম্ভাবনাটুকু আঁকড়ে ধরেই নির্বাচনকে দেখে। আসলে শিক্ষার্থীদের চাওয়া খুব সাধারণ নিরাপদ ক্যাম্পাস, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ এবং একটি স্থিতিশীল সমাজ। তারা এমন নেতৃত্ব দেখতে চায়, যারা তরুণদের সমস্যাকে কেবল বক্তৃতার বিষয় বানাবে না; বরং বাস্তব সমাধানের পথে এগিয়ে যাবে। তাদের কাছে উন্নয়ন মানে শুধু বড় বড় প্রকল্প নয়, বরং এমন সুযোগ সৃষ্টি করা, যেখানে একজন তরুণ নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যেতে পারে। নির্বাচন তাই শিক্ষার্থীদের কাছে কেবল ভোটের দিনটুকু নয় এটি তাদের স্বপ্ন, উদ্বেগ ও সম্ভাবনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তারা খুব বড় কোনো দাবি তোলে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটি সহজ আশাই লালন করে এবার যেন কথার চেয়ে কাজের মূল্য বাড়ে, আর ভবিষ্যৎ দিনগুলো সত্যিই তাদের জীবনকে আলোকিত করে।
—সানজিদা আক্তার সামিয়া
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ফেনী ইউনিভার্সিটি
