ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সব কয়টিতেই জয়লাভ করেছে বিএনপি প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২৮টি কেন্দ্রের ২ হাজার ৪৩৯টি কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এরপর ভোট গণনা শেষে রাত ২টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক ফলাফল ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেনীর তিনটি আসনের মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৫৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, ফেনী-২ আসনে ৫১ দশমিক ৮৭ শতাংশ ও ফেনী-৩ আসনে ৫৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। 

নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫২ জন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের কাজী গোলাম কিবরিয়া হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৩২৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী লাঙ্গল প্রতীকে ৯৪০ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভূঞা বটগাছ প্রতীকে ৩১০ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ডাব প্রতীকে ২১৫ ভোট ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার হারিকেন প্রতীকে ১৮৮ ভোট পেয়েছেন।

ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট থেকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ঈগল প্রতীকে ৮০ হাজার ৫৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা হাতপাখা প্রতীকে ৬ হাজার ৮৪৯ ভোট, আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার প্রজাপতি প্রতীকে ৮০১ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা রিকশা প্রতীকে ৮২০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল ঘোড়া প্রতীকে ৭০৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মো. তারেকুল ইসলাম ভূঞা ট্রাক প্রতীকে ৪০৯ ভোট, বাসদের (মার্কসবাদী) জসিম উদ্দিন কাঁচি প্রতীকে ৩২২ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন বটগাছ প্রতীকে ৩০৪ ভোট, জেএসডির সামসুদ্দিন মজুমদার তারা প্রতীকে ২৪০ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লবের তাহিরুল ইসলাম আপেল প্রতীকে ২৩৯ ভোট পেয়েছেন। 

নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯৪ জন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফ উদ্দিন হাতপাখা প্রতীকে ৬ হাজার ৭০১ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ৪২৭ ভোট, বাসদের আবদুল মালেক মই প্রতীকে ৭৩১ ভোট, ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবু নাছের চেয়ার প্রতীকে ৫৩১ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ আপেল প্রতীকে ৩২৭ ভোট ও খেলাফত আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী বটগাছ প্রতীকে ৩২০ ভোট পেয়েছেন।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তার মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৭ জন, ফেনী-২ আসনে ১১ জন এবং ফেনী-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী ও দেশে ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা।

এই নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীর পাশাপাশি সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দিয়ে মতও জানিয়েছেন ভোটাররা। তার মধ্যে ফেনী-১ আসনে হ্যাঁ ভোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৯, না ভোট ৬০ হাজার ৫৮। ফেনী-২ আসনে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৩২ হ্যাঁ ভোট ও ৭২ হাজার ৫৩৩ না ভোট। এছাড়া ফেনী-৩ আসনে হ্যাঁ ভোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২১ ও না ভোট ১ লাখ ১৪।

ফেনীর তিনটি আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন, নারী ভোটার ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল ৮ জন। নির্বাচনি মাঠে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আনসার ভিডিপির ৫ হাজার ৫৬৪ জন, র‍্যাব ৭২ জন, ১৮ প্লাটুন বিজিবি, ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনী, পুলিশের ৪৫টি মোবাইল টিম, ছয়টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন ৭ হাজার ৭৬৫ জন।