ভৌগলিক দিক থেকে ফেনী ভারত সীমান্তবর্তী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ট্রানজিট পয়েন্টে অবস্থিত হওয়ায় এ জেলার প্রায় প্রতিটি স্থানে সহজ বিস্তার লাভ করেছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি স্থানে হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। এতে আসক্ত হয়ে পড়েছে ফেনীর তরুণরা, যাদের বেশিরভাগই ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক। অন্যদিকে, ফেনীতে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রবণতাও বেড়েছে উল্লেখজনক হারে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে ফেনীতে পরিচালিত অভিযানে সাধারণত বাহক, খুচরা বিক্রেতা কিংবা মাদকসেবিরা গ্রেপ্তার হলেও মাদক ব্যবসার অর্থদাতা, নিয়ন্ত্রক, সীমান্তপারের যোগসাজশকারী এবং প্রভাবশালী আশ্রয়দাতারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কারবারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। তাই অভিযানের খবর আগেভাগেই পেয়ে যায় মাদক কারবারিরা। এছাড়া বর্তমানে মাদক ‘হোম ভেলিভারি’ ও অনলাইনে বিক্রি করার তথ্যও পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ফেনীতে চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ফেনী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, রাজাঝির দিঘির পাড়, লালপোল বেদেপল্লী, বারাহীপুরের কাদের-ফাতেমার স্পট, ধর্মপুর আশ্রয়ণ কেন্দ্র, পাঁচগাছিয়ার মাথিয়ারার মির্ধা বাড়ির বিভিন্ন কলোনি, রামপুর স্কুলের পাশে নাসির উদ্দিন ভূঞা বাড়ি, সদরের ধলিয়া ইউনিয়নের মিজি বাড়ির রসুল আহাম্মদ বলি, লেমুয়া বাজারে সোহেল আইসক্রিম ফ্যাক্টরির পেছনে বাবলুর স্পট, ছনুয়া ইউনিয়নের টঙ্গিপাড়া, কালিদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ মাইজবাড়িয়া মিলনের স্পট, ধর্মপুর ইউনিয়নের জেরকাছাড়, শর্শদী ইউনিয়নের চোছনা বটতলা, দেবীপুর, আবুপুর, মোহাম্মদ আলী বাজারের আশপাশে, দুলামিয়া পদুয়া রাস্তার মাথা, ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়নের কলাতলী বস্তিসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মাদকের বিভিন্ন স্পট রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, ফেনীতে চিহ্নিত মাদক কারবারি রয়েছে শতাধিক। এছাড়া খুচরা বিক্রেতা রয়েছে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন। ফেনীতে গাঁজা সেবনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারীর সংখ্যাও কম নয়। বর্তমানে ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বিভিন্ন ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে। ফেনীর ছয়টি উপজেলার মধ্যে ফেনী সদর, ফুলগাজী, পরশুরাম এবং ছাগলনাইয়া উপজেলা ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় এসব এলাকা মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। মাদক পাচারে সিএনজি এবং ব্যাটাচালিত অটোরিকশা চালকদের ব্যবহার করছে মাদক কারবারিরা। 

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডিএনসির ফেনী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ জানান, শহরের ট্রাঙ্ক রোড থেকে সদর হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারিদের সোর্স থাকে। গডফাদার বা শীর্ষ মাদক কারবারিদের ধরতে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের জন্য আমরা গাড়ি নিয়ে বের হলে মাদক কারবারিরা আগেই খবর পেয়ে স্থান পরিবর্তন ও মাদকদ্রব্য সরিয়ে ফেলে। ফলে অনেক সময় বাহক, খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীদের আটক করা সম্ভব হলেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না। অভিযানে মোবাইল কোর্টে যাদের সাজা দেওয়া হয়, তাদের বেশিরভাগই মাদকসেবি।

স্থানীয়রা বলেন, ফেনীতে শুধু বাহক বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসার অর্থদাতা, নিয়ন্ত্রক ও নেপথ্যের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারলেই এ অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। মাদক ব্যবসার অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করতে হলে অভিযুক্তদের দৃশ্যমান সম্পদের সঙ্গে আয় ও আর্থিক লেনদেনের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন, পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগীদের নামে থাকা সম্পদের অনুসন্ধান এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের সঙ্গে সমন্বিত তদন্তের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মহিউদ্দিন খোন্দকার বলেন, মাদকসেবন ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের কারণে সমাজে হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ বাড়ছে। সাধারণ আদালতে মামলার চাপ বেশি থাকায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

চ্যালেঞ্জের মুখে ডিএনসি

ফেনীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও মাদকের গডফাদারদের ধরতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, অভিযানে শুধু খুচরা বিক্রেতা বা মাদকসেবিদের আটক করছি তা নয়, আমরা টার্গেটভিত্তিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদকের বড় চালান জব্দের চেষ্টা করছি এবং কিছু ক্ষেত্রে সফলতাও পেয়েছি। তবে গডফাদার বা বড় মাদক কারবারি ধরতে নিয়মিত অভিযান চলছে। প্রতি মাসে এক থেকে দুজন পাইকারি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যদিও উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ সব সময় বেশি নাও হতে পারে, তবুও বড় মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মোহাম্মদ আবদুল হামিদ বলেন, মাদক মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হলে মাদক ব্যবসায়ী ও বাহকদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। এতে সমাজে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে শাস্তি অনিবার্য এ বার্তা যাবে। সরকার মাদক মামলার বিচার ত্বরান্বিত ও কার্যকর করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদক মামলায় শুধু মাদক উদ্ধার দেখানোই যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে বড় চালানের ক্ষেত্রে মাদক কোথা থেকে এসেছে, কারা অর্থায়ন করেছে, কারা পরিবহন করেছে এবং কারা খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করেছেÑএসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করা হয়। মাদকের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

সহকারী পরিচালক আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হলেও জনবল সংকট, গাড়ি ও অস্ত্রের অভাবে অভিযান পরিচলনা করতে নান সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। এজন্য পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হয়। এক্ষেত্রে ডিএনসির সক্ষমতা বাড়ানো ও অধিদপ্তরকে যুগোপযোগী করার দাবি জানান তিনি।

ডিএনসি’র তথ্যমতে, ফেনীতে গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ৬ মাসে ৬৮৯টি অভিযান চালিয়ে ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে ৪৪টি মামলা ও ১০৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এই সময়ে ৭ হাজার ১২৪ পিস ইয়াবা, ২৭ কেজি ৮৭৫ গ্রাম গাঁজা, ৯১ বোতল বিদেশী মদ, ৫০০ মিলিলিটার চোলাইমদ, ২ হাজার ৩৪০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১৩ বোতল এসকাফ সিরাপ, একটি পাইপগান, একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ৩৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারাগার, মসজিদে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

ডিএনসি’র ৬৭৬টি মামলা বিচারাধীন: মামলা হলেও খালাস পায় বেশিরভাগ আসামি

ফেনীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কর্তৃক করা মাদক মামলার মধ্যে বর্তমানে ৬৭৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে আদালত দুটি মাদক মামলার রায় প্রদান করেছেন। এর মধ্যে একটি মামলায় আসামি খালাস পেয়েছেন এবং অপর মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে তিনটি মাদক মামলার চার্জশিট দাখিল ও নতুন করে আরও আটটি মামলা করা হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত মোট ৪৪টি মাদক মামলা করা হয়েছে। তবে মামলা করা হলেও আদালতে দীর্ঘসূত্রিতা এবং সাক্ষীদের হাজির না হওয়ায় খালাস পেয়ে যান অধিকাংশ মাদক মামলার আসামিরা।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হতে অনাগ্রহী হন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাসমান বা অস্থায়ী ঠিকানার ব্যক্তিদের সাক্ষী করা হলেও পরে আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের সময় তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে অনেক মামলার বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

এ প্রসঙ্গে ফেনী জজ কোর্টের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীর অভাবে মাদক মামলার আসামিরা খালাস পায়। জব্দ তালিকায় সাক্ষীকে না দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তারা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বলে আমরা কিছু দেখিনি। যার কারণে মাদক মামলার আসামিরা সহজে খালাস পেয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে আরেক আইনজীবী জিহাদ হাসান রাসেল বলেন, জব্দ তালিকায় অসঙ্গতি, আলামত সংরক্ষণে ত্রুটি, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন সংগ্রহে বিলম্ব, সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং তদন্তগত দুর্বলতার কারণে অনেক মামলা বিচারিক পর্যায়ে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামি খালাস পেয়ে যান। তিনি আরও জানান, আইনগত বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁদের অনেকেই পুনরায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ফেনীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হামিদ বলেন, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সাক্ষী করা হয়। আমাদের টিম অনেক পরিশ্রম করে মাদক কারবারিদের আটক করে। কিন্তু অনেকেই ভয় বা অনীহার কারণে সাক্ষ্য দিতে চান না। সাক্ষীরা আদালতে হাজির না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মাদক মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে।

ফুলগাজী থানা পুলিশের তথ্যমতে, গত ৭ জুন মাদকবিরোধী অভিযানে অভিযানে ৪১ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে মো. ইব্রাহিম (৫০) নামে গ্রেপ্তার এক মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ২৪টি মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলার কিছু বিচারাধীন এবং কয়েকটিতে তিনি সাজাও ভোগ করেছেন। পুলিশের জানায়, ইব্রাহিমকে ২৫ বার গ্রেপ্তার হলেও মাদক কারবার ছাড়েনি সে।

অন্যদিকে পরশুরাম থানা পুলিশের অভিযানে গত ৬ ও ৭ জুন ফেনীর দুই শীর্ষ মাদক কারবারি ফাতেমা আক্তার ও কাল্লু প্রকাশ সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মাদক মামলা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনী রেলস্টেশনের এ দুই শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বন্ধ হয়নি তাদের মাদক কারবার। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৭ জুন গ্রেপ্তারের পর এক সপ্তাহের মাথায় গত ১৫ জুন আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে গেছেন শীর্ষ মাদক কারবারি কাল্লু। 

এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি সদরের কালিদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ মাইজবাড়িয়া গ্রাম থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মী মাদক ব্যবসায়ী মিলনকে ৪০ বোতল ফেন্সিডিল, ৭০ পিস ইয়াবা, এক বোতল বিদেশী মদ ও ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭ সদস্যরা। দুই মাসের মাথায় জামিনে বের হয়ে সে পুনরায় মাদক কারবার করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে ফেনী জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী মেজবাহ উদ্দীন খাঁন জানান, গতকাল আদালতে তিন মাদক ব্যবসায়ীর জামিন দেওয়া হয়নি। আমরাও চাই মাদক ব্যবসায়ীদের বিচার নিশ্চিত হোক। মাদকের ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তবে মাদকের জব্দ তালিকা যাদের সাক্ষী করা হয় তারা অনেকেই এ ব্যাপারে কিছু জানেনা বলে জানায়। তাদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে জানায়। যার কারণে মাদক মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে যায়।

বাড়ছে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ

সর্বনাশা মাদকের থাবায় ফেনীতে বাড়ছে চোর, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। জেলার বিভিন্ন স্থানে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, বখাটেরা। ঘটছে খুন, ধর্ষণের মত ঘটনাও। জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ মে বিশ^ মা দিবসের রাতে দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে লাকি বেগম নামের এক মায়ের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী মোহাম্মদ মোস্তফা এবং মেয়ে মিথিলাও গুরুতর আহত হয়েছেন। 

এর দুইদিন পর ১২ মে ফেনী সদর উপজেলায় শর্শদী ইউনিয়নের পশ্চিম জেরকাছাড় (চোছনা) গ্রামে নিজের নির্মাণাধীন ঘরের মেঝেতে বালু চাপা অবস্থায় রিনা আক্তার নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত রাজমিস্ত্রি সাইফুল হক মাদকাসক্ত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার দিন বিকেলে রিনা আক্তারের নির্মাণাধীন ঘরে সে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। ওই সময় রিনা আক্তার ঘরের কাজ দেখাশোনা করতে এল তার স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় রিনা আক্তার বাধা দিলে শুরু হয় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি। একপর্যায়ে গলাটিপে ধরলে নিস্তেজ হয়ে যান রিনা আক্তার। পরে ঘরের বালি খুঁড়ে গর্ত করে লাশ পুঁতে রেখে পালিয়ে যায় সে।

অন্যদিকে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের পশ্চিম দেবপুর এলাকায় একটি দেশীয় একনলা বন্দুক ও ৪টি কার্তুজসহ বাবা ওবায়দুল হক মজুমদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭। এ ব্যাপারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবার জানায়, এনামুল হক রুবেল ও একরামুল হক শিবলু নামে দুই ছেলের মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় বাবাকে অস্ত্র দিয়ে র‌্যাবের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে তারা।

গত বছরের ৩০ আগস্ট সদরের ফাজিলপুর ইউনিয়নের মাদকসেবী মো. এরশাদের ছুরির আঘাতে আলমগীর হোসেন সোহাগ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এরশাদকে ছাগলনাইয়া থেকে গ্রেপ্তার করে।

একই বছরের ২৭ আগস্ট পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারায় আনোয়ারের কলোনীতে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্ব নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের বিস্তার রোধ করতে না পারার পেছনে অন্যতম কারণ দুটি। এর মধ্যে একটি হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির দুর্নীতিপরায়ণ সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং দ্বিতীয়ত, সব সরকারের আমলে মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক গডফাদারদের অপতৎপরতা। তাদের কারণে পাড়া-মহল্লায় মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাং-এর সংখ্যাও বাড়ছে।