ফেনীর বিভিন্ন বাজারে মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, সবজির দামে তেমন পরিবর্তন না থাকলেও আলুর বাজারে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

গতকাল বুধবার (৭ মে) সকালে ফেনীর বড় বাজার, মুক্ত বাজার, পৌর হকার্স মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, সবধরনের মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিপ্রতি দাম ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লাল লেয়ার মুরগির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে যা ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৩০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগিও পিছিয়ে নেই। ২০ টাকা বেড়ে এখন প্রতি কেজি ৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, মুরগির দামের ওঠানামা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এটি মূলত নির্ভর করে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর। রোজা শেষে বিয়ের মৌসুম শুরু হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ তেমন বাড়েনি। ফলে বাজারে দাম বেড়ে গেছে। তারা আরও জানান, শুধু চাহিদা-সরবরাহ নয়, মুরগির খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিও এর একটি বড় কারণ। খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত মুরগির ফিডের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের খরচ বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মুরগির দামের উপর।

শহরের মুক্ত বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আরিফ বলেন, মুরগির দাম কখন বাড়ে আর কখন কমে সেটা আমাদের হাতে থাকে না। আমরা পাইকারি বাজার থেকে যেভাবে কিনি, সেভাবেই বিক্রি করি। পাইকাররা যেভাবে দাম নির্ধারণ করেন, আমাদেরও সে অনুযায়ী কিছুটা লাভ রেখে বিক্রি করতে হয়।

একই সুরে কথা বলেন বড় বাজারের আরেক মুরগি বিক্রেতা মো. আজিম। তিনি জানান, মুরগির দাম সবসময় এক থাকেনা। কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। এছাড়াও, মুরগির দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে মুরগির খাদ্যের দাম বৃদ্ধি। বর্তমানে মুরগির ফিডে দাম কিছুটা বেড়েছে। খামারিরা এখন প্রতি কেজি মুরগি উৎপাদনে আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচ করছেন। তাই তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন, আর আমাদেরও বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আশরাফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, গত সপ্তাহে আমি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি কিনেছি। অথচ এখন শুনছি, সেটি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ করে এই দাম বাড়ার পেছনে কারো ইচ্ছাকৃত প্রভাব আছে কিনা, সেটাই এখন প্রশ্ন।

মো. কামরুজ্জামান নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, মুরগির দাম যে হঠাৎ করে এত বেড়ে যাবে, তা ভাবিনি। কিছুদিন আগেও কেজি প্রতি ১৪৫ টাকা ছিল, আর এখন ১৭০ টাকা চাচ্ছে। মনে হচ্ছে বাজারে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই যার যা খুশি, তাই দাম চায়। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাই।

এদিকে, গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম ওঠানামা করলেও বাজার ঘুরে আলুর দামে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে করলা, পটল, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনও বিক্রি হচ্ছে একই দামে। চাল কুমড়া প্রতিটি আকৃতিভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, গেল সপ্তাহের মতই পাকা টমেটো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা ও শসা প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে মিলছে।

শহরের বিভিন্ন বাজারে কিছু শীতকালীন সবজি এখনও মিলছে। তবে, দাম আগের চেয়ে চড়া। বাজারগুলোতে শিমের দাম গেল সপ্তাহের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে মানভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ফুলকপি আকৃতিভেদে প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ আকৃতিভেদে প্রতিটি ৫০ থেকে ৮০ টাকায় মিলছে। এদিকে আলু আগের দামে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পৌর হকার্স সবজি বিক্রেতা নুরুন নবী বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন কমে আসছে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে ফুলকপি বাজারে আর পাওয়া যাবে না। এজন্য শেষ মুহূর্তে দাম কিছুটা বাড়তি। তবে এখন গ্রীষ্মকালীন সবজি বাজারে প্রবেশ করছে, ফলে শিগগিরই দাম কমে যাবে।

মুক্ত বাজারের সৌরভ নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, বাজারে সবজির দাম উঠানামা করছে। কোনোদিন দাম কম থাকে, আবার কোনোদিন বেশি হয়। কারণ, সবজির কাঁচামালের দাম সবসময় এক থাকে না। তবে শীতকাল থেকে আলুর দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া কাঁচামরিচের দামেও তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

শারমিন আক্তার নামের এক ক্রেতা বলেন, সবজির দাম প্রতিদিনই একটু-আধটু বদলাচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন সবজিগুলোর দাম এখনও বেশ চড়া। তবে আলুর দাম কিছুটা কম থাকায় একটু স্বস্তি পাচ্ছি।

মোবারক নামের অপর এক ক্রেতা বলেন, বাজারে সবজির দাম আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। শীতকালে সবজির দাম ছিল খুবই সহনীয়, কিন্তু এখন আলু ছাড়া এখন সব সবজির দামই বাড়তি।