ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়ায় ছেলের বিরুদ্ধে হাঁস ও কবুতর চুরির অভিযোগ তুলে মাকে নাকে খত দেওয়ার ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের। গতকাল বুধবার (৭ মে) দুপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুকে প্রধান আসামী ও ইউনিয়ন জামায়াতে সাবেক সেক্রেটারি মহিউদ্দিনকে দুই নম্বর আসামী করে সেই সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত মা মোছাঃ সাজেদা বেগম।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুজ্জামান জানান, সালিশি বৈঠকে ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানান যায়, প্রধান আসামি ও দুই নম্বর আসামির নেতৃত্বে উপস্থিত লোকবলের সামনে একতরফা মিথ্যা সালিশ করে। বাদী সাজেদাকে সন্তানের চুরির অপরাধে নাকে খত দিতে বলে । নাকে খত দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরজবরদস্তি, শ্লীলতাহানি করে চেয়ারম্যান দেলু নাকে খত দিতে বাধ্য করে।
গত ২ মে রাতে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্যম মাথিয়ারা এলাকায় খালুর দোকান সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার দুইদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুই নারীকে নাকে খত দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
ভুক্তভোগী সাজেদা বেগম সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মাথিয়ারা গ্রামের মহিন উদ্দিনের স্ত্রী। অন্যজন একই এলাকার বাসিন্দা জোহরা বেগম।
উল্লেখ্য এ ঘটনায় পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা বিএনপি।
