ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মোড়ে ‘জুলাই ২৪ শহীদ স্মৃতি চত্বরে’ গভীর রাতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। গতকাল রোববার (১৭ আগস্ট) রাত ২টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে জানা গেছে, হামলাকারী একজন মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক।

উল্লেখ্য ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত ফেনীর এগারো শহীদের স্মৃতি ধরে রাখতে এ স্মৃতি চত্বরটি নির্মিত হয়েছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাঞ্জাবি পরিহিত এক যুবক দৌড়ে এসে শহীদ চত্বরের চারপাশে লাগানো স্লোগানসম্বলিত লোহার শীট হাত দিয়ে টেনে ও লাথি মেরে খুলে ফেলে। কিছুক্ষণ পর আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। পরে আরেকজনকে শীটগুলো পুনরায় জোড়া লাগানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হামলাকারীর নাম আবু সাঈদ বাবু (২২)। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘বাবুইয়া পাগলা’ নামে পরিচিত। তিনি ফুলগাজী উপজেলার বন্ধুয়া হাজী স্টোর এলাকার আবু তালেব চৌধুরীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, বাবু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং সদর হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করছেন।

ঘটনার পর গতকাল বিকেলে হাসপাতালে মোড়ে দেখা মেলে ওই যুবকের। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সিএনজি ড্রাইভার আমার কাপড়ের ব্যাগ চুরি করে নিয়ে গেছে। রাগের মাথায় সেখানে কয়েকটি লাথি মেরেছি। এটা আমার ভুল হয়েছে, কেউ আমাকে শিখিয়ে দেয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক মন্নান মিয়া বলেন, ছেলেটা মানসিকভাবে অসুস্থ। সে প্রায়ই হাসপাতাল এলাকায় ঘোরাঘুরি করে এবং লোকজন  বিরক্ত করলে এমন ভাঙচুর করে। এর আগেও সে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর করেছে।

স্থানীয় চা দোকানদার সনেট জানান, হঠাৎ দেখি সে শহীদ চত্বরের চারপাশের কয়েকটি শীট টেনে খুলে ফেলেছে। পরে লোকজন এগিয়ে গেলে সে সরে যায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেনীর সংগঠক সোহরাব হোসেন বলেন, এটি শহিদদের অবমাননা। বিষয়টি রাজনৈতিক না হলেও আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয় তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ফেনী পৌর প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল দাশ বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে জেনেছি অভিযুক্ত যুবক একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। তার বাবা থানায় এসে চিকিৎসার কাগজপত্র ও প্রতিবন্ধী কার্ড দেখিয়েছেন। ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির বাহিরে থাকেন বলে জেনেছি। তারপরও আমরা অধিকতর তদন্ত চালাচ্ছি।