চলতি বছর ফেনী জেলায় কোনো ইজারাকৃত বালুমহাল নেই। তাই জেলার নদী, খাল, জলাশয় বা অন্য কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলনকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অনুমতি ছাড়া অবৈধ বালু কিংবা মাটি উত্তোলন করলে অথবা করার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কেবল সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে-যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী সীমিত সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে বালু ও মাটি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। অনুমতি ছাড়া কেউ যদি নদী, খাল ও জলাশয় থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করে অথবা উত্তোলনের চেষ্টা করে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য জেলার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম দৈনিক ফেনীকে বলেন, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। বিভিন্ন বাঁধ ও নদী ভাঙন প্রতিরোধে বালু প্রয়োজন পড়লে সংশ্লিষ্ট দপ্তর অনুমতি নিয়ে বালু উত্তোলন করে। সেটি আবার অনেকে ভুল বুঝে মনে করেন জেলা প্রশাসন অনুমোদন দিয়েছে। অন্য কেউ যেন এ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারে সেজন্য গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সোনাগাজীর নবাবপুরে বালু উত্তোলনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, অভিযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে জেলা প্রশাসন টিআইসি কমিটির মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে। এরমধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় যদি অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের প্রমাণ মেলে তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।