ফেনীতে এবার জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রোববার (১৬ নভেম্বর) ভোররাতে শহরের মুক্তবাজার এলাকায় এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে স্মৃতিস্তম্ভের একটি অংশ কালো হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ৮ নভেম্বর থেকে রেলপথের ফিশপ্লেট খুলে লাল কাপড় বেঁধে দেওয়া, রাতের আঁধারে গাছ কেটে রেললাইনে ফেলা ও বাসে অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক নাশকতার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র এবং প্রাপ্ত ভিডিওচিত্র হতে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে হেলমেট পরিহিত তিন যুবক শহরের মুক্তবাজার স্টাডি কেয়ার কোচিংয়ের পাশে অবস্থান নেন। পরে তারা কেরোসিন ঢেলে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করে মডেল কলেজের পাশে গলি দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

এর আগে গত বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও থানায় কোনো মামলা হয়নি।

ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, এসব ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। এগুলোর জন্য মামলা ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব নিয়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখা দরকার। তবে আমরা এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সময়ের মতো গায়েবি মামলা বা গণহারে আসামি করার পক্ষে নই। প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা ও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। এছাড়া জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভটি এখনো উম্মুক্ত রয়ে গেছে, দ্রুত সীমানা প্রাচীর দিয়ে এটি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এখনই তৎপর হওয়া প্রয়োজন।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল দৈনিক ফেনীকে বলেন, আগে এমন কোনো ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতেন, যেখানে এসব গায়েবি মামলায় আমাদের গণহারে আসামি করা হতো। কিন্তু ফেনীতে পরপর কয়েকটি নাশকতার ঘটনায় পুলিশের নির্লিপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন রাখাই যায়। মামলা না হওয়ার পেছনে তৃতীয়পক্ষের কোন ভূমিকা থাকতে পারার বিষয়টি আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার।

এ ব্যাপারে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মহিপালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মালিকপক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।  

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে কেরোসিন ব্যবহার করে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়া হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের একটি অংশ কালো হয়ে গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, গত ৮ নভেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ফিশপ্লেট খুলে সেখানে লাল কাপড় বেঁধে রাখে দুর্বৃত্তরা। সময়মতো বিষয়টি টের পেয়ে রেলকর্মীরা লাইন মেরামত করায় সেদিন বড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া গেছে।‎ সর্বশেষ গত বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের সদর উপজেলার মহেশপুর এলাকায় রাতের আঁধারে গাছ কেটে রেললাইনে ফেলে নাশকতার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে বিষয়টি তাৎক্ষণিক রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের নজরে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এসব ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে লাকসাম জিআরপি থানায় দুটি মামলা করা হলেও এখনো জড়িতদের শনাক্ত বা কোনো অগ্রগতি হয়নি। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীপক দেওয়ান দৈনিক ফেনীকে বলেন, রেলপথের ফিশপ্লেট খুলে নেওয়া ও গাছ কেটে রেললাইনে ফেলে নাশকতার চেষ্টার ঘটনায় লাকসাম জিআরপি থানায় করা পৃথক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে।