ফেনীতে শীতের আমেজ বিরাজ করলেও স্বস্তি নেই সবজির বাজারে। মৌসুমে প্রাচুর্যের এই সময় বাজারে সবজির দাম নাগালের মধ্যে থাকার কথা থাকলেও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফেনীর বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। খুচরা বাজারে বেশির ভাগ সবজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোনোটি আবার কেজিতে শত ছাড়িয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও শীতের আমেজেও সবজির বাজারে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে শীতকালীন আগাম সবজি বিক্রি হচ্ছে, ডিসেম্বর নাগাদ সবজির দাম স্বাভাবিক হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফেনীর বড় বাজার, সুলতান মাহমুদ পৌর হকার্স মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। ফুলকপি কেজি প্রতি ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মিষ্টিকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, খিরা ৬০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা, শালগোম ১০০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, চড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শহরের বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, শীতকালীন সবজির প্রভাব এখনও বাজারে পড়েনি। যে পরিমাণ শীতকালীন সবজি বাজারে আসার কথা সে পরিমাণে আসে নি। গত দুই সপ্তাহ যাবত দাম আরও বেশি ছিল এখন কিছুটা কমেছে। দাম ওঠানামা করছে, আশা করছি ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে দাম স্থিতিশীল হবে।
তবে চাল, ডাল ও তেলসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজ, রসুন আদার দাম উর্ধ্বমুখী। ফেনীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আটাশ চাল ৬২ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ টাকা, চিনিগুড়া চাল ১০০ টাকা, আটা ৪৫ টাকা, ময়দা ৭০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৮৭ টাকা লিটার, মসুরের ডাল ১১০ টাকা,বুটের ডাল ৫০ টাকা, আলু ২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা, রসুন ১৫৫ টাকা, চিনি ৯৫ টাকা, হলুদ ২৪০ টাকা, এলসি আদা ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত থাকলেও বাজার দর অনুযায়ী উর্ধ্বমুখী বলে জানান বিক্রেতারা।
প্রোটিন বাজারে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম প্রতিডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পৌর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী আবদুল খালেক বলেন, সরবরাহ পরিস্থিতি ও মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে আগামী এক-দুই সপ্তাহ দামের এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। শীতকালীন সবজিগুলো বাজারে আসা শুরু করলে দাম কমে যাবে।
ফেনী বড় বাজারের মুদি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, পাইকারি বাজারেই দাম কিছুটা বাড়তি। খুচরায় কম দামে বিক্রি করলে লোকসান, আবার বেশি নিলে ক্রেতা কিনতে চায় না। ডিমের দামও তুলনামূলক বেশি। পেঁয়াজ রসুনের দাম আরও বেশি ছিল এখন ১০০ টাকার মধ্যে এসেছে।
বাজার করতে আসা শান্তি কোম্পানি এলাকার ক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, আগে মাছ-মাংস কিনতে না পারলেও ডিম আর সবজির ওপর ভরসা করা যেত। শীতকাল এসেছে তবুও সব কিছুর দামই নাগালের বাইরে। সংসার চালাতে মাসের অর্ধেক সময় ঋণ করতে হচ্ছে।
ফেনী পৌর তরকারি আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবু জাফর বলেন, এখন বাজারে শীতকালীন আগাম সবজি সরবরাহ হচ্ছে। গত সপ্তাহে দাম আরও বেশি ছিল, গত দুইদিন যাবত দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে নতুন আলু আসছে, কিছু কিছু সবজি নতুন করে বাজারে আসছে। তাই দাম কিছুটা উর্ধ্বমুখী, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরোদমে বাজারে সবজি আসা শুরু করলে দাম কমে যাবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্যর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাস্ক ফোর্সের অভিযানের পাশাপাশি ভোক্তা অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
