দেশ এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রায় শুনি দেশে কী হচ্ছে বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো কাজ করছে না। কিন্তু কাজ যে হচ্ছে না, তা নয়। হয় তো আপনারা সম্মুখে বুঝতে পারছেন না। অনেকে বলে দেশ আইসিইউতে চলে গিয়েছিল, এটি কিন্তু যথার্থ। একটি ব্যাংকে ৪০ হাজার কোটি টাকা জমা আছে, সেখান থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকাই নাই। এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। আমাদের উপরও এ প্রভাব পড়েছে, আগামী সরকারের উপরও পড়বে। তবুও বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝে এখনো বিশ্বে বাংলাদেশের একটি ভালো ইমেজ রয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফেনী পৌরসভা প্রাঙ্গণে ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভানের মাধ্যমে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ, অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আরও কঠিন পথ সামনে আছে। সেটি আমরা এগিয়ে নেব। সকলে হ্যাঁ ভোট ও সঠিক প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। এটির মাধ্যমে এবারের নির্বাচন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নির্বাচন হবে, কোনো কিছুই নির্বাচন আটকাতে পারবে না। নির্বাচনে বাধা দেওয়ার মতোও কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, এবার আরেকটি বিষয় হ্যাঁ ভোট। কারণ এমন সুযোগ খুব কম আসে। এ নিয়ে আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। দেশে কী কী সংস্কার চান এই বিষয়ে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। সেই সংস্কার শুধু আগামীর সরকার করবে তা নয়। সেটি তারা করবে, পরের সরকারও করবে। আমরা চাই পরে যারা আসবে তারাও যেন জনগণকে নিয়ে এ সংস্কার করে।
উপদেষ্টা বলেন, আপনারা দুর্নীতি-অর্থপাচার চান না, মহিলাদের সমান অধিকার, সুষ্ঠু বিচার চান-এই জিনিসগুলো সার্বজনীন হ্যাঁ। গণভোটে এই হ্যাঁ ভোট দিয়ে মানুষের উপকার করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিন আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন কাকে ভোট দেবেন। কারো প্ররোচনায় বা উপদেশে নয়, বরং যে দেশ ও দশের জন্য কাজ করবে তাকেই আপনি ভোট দেবেন।
আদর্শ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা দেশকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। বাংলাদেশের লোকজন অনেক মেধাবী, দেশের জন্য দরদী। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা এগোতে পারিনি। এবার এ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। সকলের সম্মেলিত প্রচেষ্টায় আমরা এগিয়ে যেতে চাই। তারুণ্যকে নিয়ে স্বচ্ছ-সুন্দর ও আদর্শ একটি বাংলাদেশ গড়তে আমরা কাজ করব।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হকের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এ সময় পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এ কর্মসূচি ঘিরে দুপুর থেকেই ফেনী পৌরসভা প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হন মানুষজন। তবে নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরক্তির ছাপ দেখা গেছে।
