প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার পৈত্রিক জেলা ফেনীতে আসছেন তার সন্তান ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলা (ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুুর) ১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেবেন দলের চেয়ারম্যান। এসব আসনের সব কয়টিতে বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করবেন। এছাড়াও গতবছরের ৪ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত আটজনের পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
সূত্রে আরও জানা গেছে, তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে ২০টি বড় পর্দা স্থাপন করা হয়েছে। এরই মধ্যে শহরজুড়ে মাইক স্থাপন করা হয়েছে এবং কোন জেলার নেতাকর্মীরা কোথায় অবস্থান করবেন, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের বহন করা যানবাহন কোন কোন স্পটে পার্কিং করা হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে নিজ নিজ জেলা, থানা ও পৌর কমিটিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, তারেক রহমানের এই জনসভা অতীতের সব রাজনৈতিক সমাবেশের রেকর্ড ভেঙে দেবে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনসভাটি সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু পরিবেশে আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি মঞ্চে তারেক রহমানের কাছে ফেনীর বিভিন্ন সমস্যা ও জনগণের দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হবে, যাতে সেগুলোর কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় পর তিনি ফেনী সফরে আসছেন, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। এ উপলক্ষে জেলা জুড়ে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি দলীয় নিরাপত্তা টিম সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
জানা গেছে, তারেক রহমান গতকাল ঢাকা থেকে আকাশপথে চট্টগ্রামে রওনা দেন। চট্টগ্রামে পৌঁছে রাতে সেখানেই অবস্থান করেন। আজ সকালে চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডে প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর বিকেলে ফেনী ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে জনসভায় যোগ দেবেন। রাতে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে একটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে পুলিশ
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নিরাপত্তায় সর্র্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের নিরাপত্তায় ফেনীতে সর্বোচ্চ সংখ্যক পুলিশ মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে এ তথ্য জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে ফেনীতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হবে। এ সমাবেশে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা অংশ নেবেন। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা একটি কার্যকর নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, শহরের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে সর্বোচ্চ সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে এবং ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে।
সভাস্থলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এ কর্মকর্তা বলেন, সব প্রার্থীর নিরাপত্তাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু এখানে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতি থাকবে, তাই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থীদের নিরাপত্তায় আমরা সতর্ক রয়েছি।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আজ রাত থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে। রোববার শহরে অতিরিক্ত মানুষের সমাগমের কারণে বড় যানবাহন যেন শহরে প্রবেশ না করে এবং মোটরসাইকেল চলাচল সীমিত রাখার আহবান জানিয়েছে পুলিশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ রোববার বিকেল ৪টায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ফেনীতে আসছেন তিনি। তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম বিভাগ সফরকে কেন্দ্র করে ফেনীতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসবমুখর পরিবেশ। শহরের প্রধান সড়ক, মোড়, পাইলট স্কুল মাঠসহ অলিগলিতে ব্যানারুফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা।
