ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপোল এবং মহিপাল থেকে বিসিক এলাকাসহ ফেনীতে মহাসড়কের ২৬ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে উল্টোপথে কভার্ডভ্যান, সিএনজি এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল বেড়েছে। আসন্ন রমজানের ঈদকে রেখে ফেনীর বিভিন্ন স্থান থেকে শহরে কেনাকাটা করতে ভিড় বাড়ছে সাধারণ মানুষের। যাতায়াতে বেশিরভাগ ব্যবহার করছে সিনএজি অটোরিকশা। মহাসড়কে সময় বাঁচাতে নিয়ম না মেনে উল্টো পথে চলাচল বেড়েছে এসব যানবাহনের। এতে ব্যস্ত এ মহাসড়কে উল্টোপথে গাড়ি চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়েছে। ফেনীর লালপোলে ও বিসিকে সড়ক প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া মহাসড়কে উল্টোপথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যটারিচালিত অটোরিকশা। হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালালে বন্ধ থাকে চলাচল, এরপরই আবার শুরু হয় উল্টোপথে চলাচল।

এ ব্যাপারে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, লালপোলে ও বিসিকে উল্টোপথে গাড়ি চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাসড়কের এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, ফেনীর বিসিক ও লালপোলে মহাসড়ক যেন মরণফাঁদ। এসব স্থানগুলোতে যানবাহন চালকরা ট্রাফিক আইন মেনে চলে না। সময় বাঁচাতে তারা উল্টোপথে চলাচল করে। এর কারণে মহাসড়কে অহরহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে। গত রমজানে এসব স্থানে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সোনাগাজী ও সদর উপজেলার মানুষদের লালপোল অতিক্রম করে শহরে প্রবেশ করতে হয়। সিএনজি অটোরিকশা তাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। ফেনী থেকে সোনাগাজীতে যেতে সিএনজি অটোরিকশাগুলো লালপোল ইউটার্ন না গিয়ে কালিপাল দিয়ে মহাসড়কে উল্টোপথে যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া মহিপাল থেকে সোনাগাজী চলাচলকারী বাসগুলো একইভাবে উল্টোপথে চলাচল করে থাকে। এছাড়া মহিপাল থেকে দাগনভূঞা ও আশেপাশের এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে থাকে। এছাড়া বিসিক ও বাথানিয়া এলাকার মানুষরা গন্তব্যে যেতে উল্টোপথে সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া ফেনী শহর ও মহিপালে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এর ফলে মহিপাল ও ফেনী শহরের শহিদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, ট্রাঙ্ক রোড, মিজান রোড, সদর হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও মাসিক সাধারণ সভায় আলোচনায় এসব উত্থাপন করেন ট্রাফিক পরিদর্শক মো. কবির হোসাইন। সভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সভায় তিনি বলেন, ফেনীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এর ফলে শহরে যানজটের মাত্রা বেড়েছে। এছাড়া অটোরিকশাগুলো মহিপাল থেকে বিসিক পর্যন্ত মহাসড়কে উল্টো পথে চলাচল করায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।