ফেনী শহরে ফের শুরু হয়েছে ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিযান। গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) শহরের কুমিল্লা বাস স্ট্যান্ড, নাজির রোড, শান্তি কোম্পানি রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অভিযান পরিচালনা করেছেন পৌর ও পুলিশ প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার কর্মীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট, ঠেলা-ট্রলি ও অন্যান্য অস্থায়ী সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে দখলকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত তাদের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এছাড়াও শহরের বিভিন্ন হোটেল, মুদি দোকানী ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা ফুটপাতের একাংশ অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রশাসনের অভিযান শুরু হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেন, আর অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার দখল ফিরিয়ে নেন। এ কারণে অনেকেই এই পরিস্থিতিকে ‘চোর-পুলিশ খেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শহরের সচেতন মহলের মতে, শহরে নিরাপদভাবে হাঁটাচলার জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালালেও দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা তৎক্ষণাৎ একই স্থানে ফিরে এসে পুনরায় ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেছেন।
শহরের নাজির রোডের রেজাউল করিম নামে এক বাসিন্দা বলেন, প্রশাসন যদি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে, তাহলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, শহরে মুক্তভাবে হাঁটা-চলা করা আমাদের অধিকার, কিন্তু দেখা যায়, ফুটপাত চলাচলের জায়গায় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা অবস্থান করছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।
শান্তি কোম্পানি রোডের বাসিন্দা আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, প্রশাসনের অভিযান করে ফুটপাত দখল আটকানো সম্ভব হলেও পুনরায় দখল হওয়ার প্রবণতা থাকে। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নির্ধারিত এবং উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে তারা ফুটপাত দখল না করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। অন্যথায়, প্রশাসনের অভিযানের পরও আবার একই জায়গায় দখল ফিরে আসবে।
এদিকে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মূলত শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছেন। ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন অভিযান চালিয়ে তাদের সরিয়ে দিলেও তাদের পেটের দায় কেউ নিচ্ছে না। তারা আরও জানান, ফুটপাত ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা তাদের জন্য কঠিন।
নাজির রোডে ফুটপাত দখল করে ব্যবসায় পরিচালনা করছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফুটপাত ছাড়া ব্যবসা করা সম্ভব নয়। প্রশাসন সাময়িকভাবে আমাদের সরিয়ে দেয়, কিন্তু তাতেই সমস্যা সমাধান হয় না। আমাদের জন্য কিছু স্থায়ী এবং নিরাপদ জায়গা বরাদ্দ করা উচিত যেন আমরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফুটপাত দখলকারী বলেন, আমরা দোকান ভাড়া করে ব্যবসা পরিচালনা করার মতো সে সক্ষমতা নেই। তাই ফুটপাতে ও রাস্তার পাশে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। এ আয় দিয়ে আমাদের পুরো সংসার চলে। প্রশাসন তুলে দেয় মাঝেমধ্যে জিনিসপত্রও নিয়ে যায়।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসপি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত দখল সমস্যা শুধুমাত্র ফেনী নয়, পুরো দেশের একটি সাধারণ সমস্যা। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শহরের সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে চলাচল করতে পারে। তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী অভিযানগুলোতে বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময় এবং রমজান মাসে আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সফল হয়েছি। সেই সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য, যাতে শহরের সড়কগুলো এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ ও সুবিধাজনক থাকে।
ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে কথা বলছি। যদি এই পুনর্বাসনের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে শহরের ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
ফেনী পৌর প্রশাসক মো. নবীনেওয়াজ বলেন, আমাদের ফেনীর সংসদ সদস্য প্রস্তাব করেছিলেন যে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের জন্য অস্থায়ী মার্কেট করা যায় কিনা। যদি ভবিষ্যতে এটি সম্ভব হয়, তাহলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা স্থায়ীভাবে সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৌর প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
