ফেনীতে ৭ বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ‘ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল’ নামে একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবিপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ সময় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য রোগীরা সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
এতে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাজ হাবিব খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম ফাহাদ।
ভ্রাম্যমাণ আদালাত সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত মনিটরিং ও সুপারভিশনের অংশ হিসেবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি পরিদর্শন টিম শহরের দুটি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে সরকার নির্ধারিত সেবার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে বায়জীদ হেলথ কেয়ার সার্ভিস ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অব্যবস্থাপনার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাজ হাবিব খান জানান, ‘কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। লাইসেন্স না থাকা ও অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালটির সকল কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ‘সিলগালা করা হাসপাতালটির ২০১৯ সাল থেকে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার সতর্ক করে নোটিশ দিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনেকে চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।’
সিভিল সার্জন জানান, ‘জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
