ফেনী সরকারি কলেজে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) কলেজের অধ্যক্ষ কার্যালয় থেকে জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত শাস্তিমূলক বিধান উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলেজের একাদশ-দ্বাদশ, স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও মাস্টার্স ১ম ও শেষ পর্বের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত অভ্যন্তরীণ ইনকোর্স, সাময়িক, নির্বাচনী ও পাবলিক পরীক্ষাসহ সকল ধরনের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ব্যতীত অন্য কারও সঙ্গে বিধি বহির্ভূত যোগাযোগ করলে অথবা নকল করার মতো কোনো ডিভাইস (ক্যালকুলেটর, নকল রাখার ইলেকট্রনিক যন্ত্র, লিখিত স্কেল ও কাগজ ইত্যাদি) পরীক্ষার্থীর কাছে পাওয়া যায়, এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট চলতি পরীক্ষার কোর্সটি বাতিল করা হবে। একইসঙ্গে বাতিলকৃত কোর্সটির পরীক্ষায় পরবর্তী বছর বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া প্রবেশপত্র, খাতা, টেবিল, বেঞ্চ,প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষার সংক্রান্ত কোনো নথি থেকে কিংবা শরীরে পরিধানকৃত কোন বস্ত্র কিংবা শরীর হতে নকল করল, দূষণীয় কাগজ হতে পয়েন্ট নিয়ে তা বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করলে কিংবা পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার কোর্সসহ পরবর্তী একটি কোর্সসহ মোট দুইটি কোর্সের পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীকে কোর্স দুটির জন্য পরবর্তী বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর আদান-প্রদান করে নকল করলে, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাগজাদি রেফারেন্স ছাড়া কপি করে জমা দিলে, মূল খাতার বাইরে লিখা কোন প্রশ্নের উত্তরসহ পাতা সংযুক্ত করলে, হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে, এক পরীক্ষার্থী অন্য পরীক্ষার্থীর সাথে উত্তর বিনিময় করলে এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় মূল খাতার সাথে অতিরিক্ত খাতার অসঙ্গতি দেখা গেলে কিংবা উত্তরপত্রে অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখলে চলতি বছরের সকল পরীক্ষা বাতিল করা হবে। পরবর্তী বছর থেকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া পরীক্ষাকালে কক্ষ পর্যবেক্ষকের সাথে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার ও বাক্য বিনিময় করলে, কক্ষের ভেতরর কিংবা বাইরে পরীক্ষককে ভীতি প্রদর্শন করলে কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, শিক্ষক-কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণ, মারামারি, হুমকি বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে চলতি বছরের পরীক্ষাসহ পরবর্তী বছরের পরীক্ষাও বাতিল করা হবে। শাস্তির মেয়াদ শেষে নির্ধারিত শর্তে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এছাড়াও পরীক্ষার খাতা বাইরে নেওয়া, খাতা ছিঁড়ে ফেলা বা খাতা জমা না দিলে একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোনো পরীক্ষার্থী যদি ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র বা পরীক্ষার কক্ষের ছবি-ভিডিও ধারণ করে আপলোড করে, তবে তাকে বহিষ্কার করাসহ ছাত্রত্ব বাতিল করার কথা জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক খোন্দকার বলেন, এসব নিয়িমগুলোর বিধান রয়েছে। কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় এসব বিধানে কিছুটা শিথিলতা দেখানো হলেও পাবলিক পরীক্ষায় এমন কিছু করলে পরীক্ষা বাতিলসহ নানা জটিতলতায় পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের। কলেজের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী যেন সতর্ক থাকে, পাবলিক পরীক্ষার জন্য যেন ভালো প্রস্তুতি নিতে পারে সেজন্য এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছুদিন আগে ফেসবুকে কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের ছবি দিয়েছে যা আমাদের নজরে এসেছে। এসব থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
