পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ফেনীতে। গত সোমবার সকাল থেকে খুলেছে সরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বেসরকারি অফিস। দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে মানুষের ব্যস্ততা।

ঈদকে কেন্দ্র করে ফেনীতে ছিল মানুষের ঘরে ফেরার আনন্দ। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ফেনীর মানুষ ছুটে এসেছিলেন প্রিয়জনদের কাছে। আবার ফেনীতেও অনেক মানুষ রয়েছেন যারা সরকারি-বেসরকারি চাকরির কারণে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ঈদের ছুটিতে তাদের কেউ গ্রামের বাড়িতে গেছেন, আবার কেউ ফেনীতেই পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই ফেনী শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের ভিড়ও ছিল তুলনামূলক বেশি। ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর প্রয়োজনীয় লেনদেন ও দাপ্তরিক কাজ সারতে মানুষের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। 

এদিকে অফিস-আদালত খোলার পাশাপাশি শহরে স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে যান চলাচলও। সকাল থেকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড, শহিদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, মহিপালসহ প্রধান সড়কগুলোতে সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ দেখা গেছে। যাত্রী পরিবহনে ব্যস্ত হয়ে ওঠে বাস, সিএনজি ও রিকশা স্ট্যান্ড। ঈদের ছুটির সময় ফাঁকা থাকা সড়কগুলোতে এখন আবার ফিরেছে আগের মতো যানজট ও গন্তব্যমুখী মানুষের তাড়া।

ফেনীতে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা আবদুল কাদের বলেন, আমি মূলত কুমিল্লার মানুষ। ফেনীতে চাকরির কারণে এখানে থাকি। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আজ আবার অফিস শুরু হওয়ায় কর্মস্থলে ফিরেছি।

ফেনী শহরের একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত শারমিন আক্তার বলেন, আমাদের অনেক সহকর্মী বিভিন্ন জেলা থেকে ফেনীতে চাকরি করতে এসেছেন। ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি গিয়েছিল। আজ অফিস খোলায় আবার আগের কর্মব্যস্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে।

শহরের ট্রাংক রোডের ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, ঈদের কয়েকদিন শহর অনেকটাই ফাঁকা ছিল। আজ সকাল থেকে দোকানপাট, অফিস-আদালত খুলে যাওয়ায় আবার মানুষের চলাচল বেড়েছে।

ইবনে ওয়াদুদ নামে আরেক চাকুরিজীবী বলেন, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে খুব ভালো সময় কাটিয়েছি। ছুটি শেষে আবার অফিস শুরু হওয়ায় কর্মস্থলে ফিরেছি। ছুটি শেষে শহরে আবার আগের ব্যস্ততা ফিরে এসেছে।

অন্যদিকে ঢাকায় চাকরি করা ফেনীর বাসিন্দা রাকিবুল হাসান বলেন, ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ফেনীতে এসেছিলাম। ছুটি শেষ হওয়ায় আবার ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। বাসস্ট্যান্ডে আজ সকাল থেকেই অনেক ভিড়।

ফেনী শহরের সিএনজি চালক মো. রফিক বলেন, ঈদের সময় কয়েকদিন যাত্রী একদম কম ছিল, অনেক সময় গাড়ি নিয়ে বসে থাকতে হয়েছে। এখন অফিস-আদালত খুলে যাওয়ায় যাত্রী বাড়ছে, তবে এখনও পুরোপুরি আগের মতো ভাড়া হচ্ছে না। তবুও আগের চেয়ে ভালো অবস্থা।

অটোরিকশা চালক আবুল কালাম বলেন, ছুটির সময় শহর ফাঁকা থাকায় আয় প্রায় বন্ধ ছিল। এখন আবার লোকজন বের হচ্ছে, বাজার-অফিস চলছে, তাই ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে তেলের খরচ আর সংসার চালাতে আগের মতো ব্যস্ততা দরকার।

মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে বর্তমানে যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে কম এবং কোনো যানজট নেই। তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কিছুটা চাপ থাকলেও দীর্ঘ ছুটির কারণে এবার ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গত ২৬ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ছিল। এছাড়া ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৫ মে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। সব মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন।