ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চের কজলিস্টে মামলাটি যুক্ত হয়।
নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যা সংক্রান্ত আলোচিত মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নুসরাত হত্যা মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর একই বছরের ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৬ জন।
রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে পেপারবুক প্রস্তুত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মামলাটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ কারণে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলও দায়ের করেছেন।
দীর্ঘদিন পর মামলাটি শুনানির কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
