প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পর এবার ফেনী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হলেন নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ক্ষুদে ফুটবলারদের উৎসাহ যুগিয়ে ভাইরাল হওয়া শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০০৮ এর ২ (১৫) অনুযায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান এ অনুমোদন দেন। ফেনী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সভাপতি করা হয় জেলা প্রশাসক মনিরা হককে। সহ-সভাপতি করা হয় জেলা পুলিশ সুপারের সহধর্মীনি। এ কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয় আলোচিত শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলিকে। এছাড়া কমিটিতে জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস মিতাকে সহ-সভাপতি, সৈয়দা রাশেদা আক্তার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য করা হয় সামিরা বিনতে মাহি, আমেনা আক্তার শেলী, সৈয়দা আরিফা আক্তার লিমা ও মোসাম্মৎ মমতাজকে।
শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলিকে সাধারণ সম্পাদক করায় খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্রীড়াপ্রেমীটা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তারা প্রত্যাশা করেন- মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও তিনি খেলাধুলার উন্নয়নে নানামুখী ভূমিকা রাখবেন।
এর আগে, গত ৩ জুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাথে সাক্ষাৎ করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে ক্ষুদে ফুটবলারদের উৎসাহ দিয়ে ভাইরাল হওয়া ফেনী সদর উপজেলার গিল্লা বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার। সাক্ষাৎ শেষে খালেদা আক্তার জানিয়েছিলেন, চাকরির বিধি লঙ্ঘন হবেনা এমন সব সংস্থায় তাকে পদ পদবি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী।
তার আগে, ওই শিক্ষিকাকে উপহার পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি ও ক্রীড়া সংগঠকগুলোর নেতারা ওই শিক্ষিকার বাসায় গিয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন। জেলা শহরের সেলিনা পারভীন সড়কে গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীনের বাসায় গিয়ে উপহার তুলে দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে দলটির নেতারা।
গত ২৬ মে খালেদার বাসায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মনিরা হক। গত ২৯ এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনালে অংশ নেয় সদর উপজেলার গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ম্যাচ চলাকালীন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীন তার শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিওচিত্র দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ইতিবাচক সাড়া পড়ে।
ফেনী সদরের এই শিক্ষিকার পুরো পরিবারই ক্রীড়া ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। তার বাবা সৈয়দ মমিনুল ইসলাম একসময় ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন এবং ভাই সৈয়দ মামুনুল হাসান ছিলেন ফেনী জেলার নামী ফুটবলার। পলি নিজে এবং তার বোন ফেনী মহিলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলেছেন। এমনকি তার প্রয়াত স্বামী গোলাম রব্বানী ছিলেন সকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট, যিনি বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
