দাগনভূঞা উপজেলায় গমের ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলা গম আবাদ হয়েছে ৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রণোদনা ও প্রকল্প প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল গম উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের সার্বিকভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, মূলত শীত মৌসুমে উপজেলার বেশীর ভাগ এলাকায় সবজি, ধান, সরিষা চাষ করলেও এরইমধ্যে স্থানীয় কৃষকরা গম চাষে খরচ কম ফলন বেশি হওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে গম চাষ, উৎপাদিত ফসল সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষক নতুন জাতের গমের প্রদর্শনী, সুষম সারের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান ও বালাই দমনে কোয়ালিটি সমৃদ্ধ বালাইনাশক এবং হাইব্রিড জাতের বীজ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এছাড়াও উপসহকারী কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে মাঠ পরিদর্শন করছেন।

পৌর এলাকার চাঁদপুর গ্রামে ৩০ শতক জমিতে গম আবাদ করেছেন কৃষক নিয়াজুর রহমান সবুজ। মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তৃত মাঠে দু-চোখ জুড়ানো এক সবুজের সমারোহ। ফসলের মাঠ জুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজ। কৃষক নিয়াজুর রহমান সবুজ বলেন, আমি ৩০ শতাংশ জমিতে বারী-৩৩ জাতের গম চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনা পেয়েছি। কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে মাঠে এসে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছেন। গম চাষে কম খরচে উৎপাদন ভালো হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, ধান চাষের চেয়ে গম চাষে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলনসহ বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়া যাওয়ায় গম চাষে তাদের আগ্রহ বেড়েছে। এ বছর তারা দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনায় সার ও বীজ পেয়েছেন। নিয়মিত জমির পরিচর্যার পাশাপাশি ছত্রাকসহ নানা ধরনের রোগবালাই থেকে বাঁচতে বালাইনাশক স্প্রে করছেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলন অন্যান্য বছরের চেয়ে ভালো হবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিনিয়ত মাঠে কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি এ বছর গমের ভালো ফলন পাবেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রদর্শনী আকারে বীজ সার ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।