ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কলেজ শিক্ষার্থী ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। এতে ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ পলাতক ১৫৭ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ফেনী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান এ আদেশ দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্বিচারে করা গুলিতে প্রাণ হারান ওয়াকিল আহমেদ শিহাব। এ ঘটনায় ওই বছরের ২০ আগস্ট নিহত ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর এলাকার ওয়াকিল আহমেদ শিহাবের মা মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ১৫১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

ওয়াকিল আহমেদ শিহাব হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোতাহের হোসেন বলেন, এ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ১৪৮ জন ও তদন্তে প্রাপ্ত ৭১ জনসহ মোট ২১৯ জনের নামউল্লেখ করে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৩ জন ও সন্দেহভাজন ৪৯ জনসহ মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মেজবাহ উদ্দিন মেজু, এনামুল হক এনামসহ ছয়জনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নবী মেম্বার ও ফেনী পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি লিটন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা দুজনেই সেদিন অস্ত্রধারী ছিল। এছাড়া এক আসামির নাম-ঠিকানা মিল না পাওয়ায় ও দুইজনের ঘটনা সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় মোট তিনজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, চলতি বছরের ১৮ ও ২৫ জানুয়ারি দুই দফা পর্যালোচনা শেষে রোববার আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেছে। এ মামলায় ২১৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় ১৫৭ জনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আসামিদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিচার হবে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় ২৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।