২০২৪ সালে বছরের শুরুতে আলোচনায় ছিল ফেনীর পরশুরামে হাত-পা ও মুখ বেঁধে উম্মে সালমা লামিয়া (৭) নামে এক শিশুকে হত্যার ঘটনা। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শনাক্ত হয়নি হত্যাকান্ডে জড়িতরা। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মামলা করার পর ৫জন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে কোর্ট পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, মামলাটি পুলিশ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. বায়েজীদ আকন তদন্ত করছেন। আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত পুলিশ রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ আকন জানান, হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ মামলার সন্দেহভাজন দুই আসামি নিহতের মা আয়েশা আক্তার ও কামাল উদ্দিন সুমনা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
গত ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে জেলার পরশুরাম পৌরসভার পশ্চিম বাঁশপদুয়া এলাকার এয়ার আহাম্মদের ভাড়া বাসায় শিশু লামিয়াকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এ হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে নিহতের মা আয়েশা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেদিন পল্লী বিদ্যুতের লোক দাবি করে দরজা খুলতে বলেন হেলমেট পরা দুই যুবক। ভেতর থেকে শিশুরা দরজা খুলে দিলে তারা (দুই যুবক) ঘরের ভেতরে ঢুকে লামিয়াকে (৭) স্কচটেপ দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে হত্যা করে। এ সময় বড় বোন ফাতেমা আক্তার নিহা (১২) পালিয়ে গিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনার দুই বছর হতে চললেও এখন পর্যন্ত সেই দুই যুবককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
গত ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ এ ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী লামিয়ার বড় বোন ফাতেমা আক্তার নিহার বর্ণনা অনুযায়ী হত্যাকারীদের ছবি (স্কেচ) এঁকে নিয়েছিল পুলিশ। তবুও পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে না পারায় নিহত শিশুটির পরিবারের হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে নিহত শিশু লামিয়ার বাবা মো. নূর নবী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে পরশুরাম থানায় একটি মামলা করেন। ওইদিন রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মা আয়েশা আক্তার ও সৎ মা রেহানা আক্তারকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আয়েশাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সৎ মা রেহানাকে বাদীর জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে আয়েশা আক্তারকে দুই দফা পাঁচ দিনের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তেমন কোন তথ্য মেলেনি। লামিয়াকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে অভিযুক্ত মা আয়েশা কয়েকমাস কারাভোগের পর বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
নিহতের বাবা নূর নবী বলেন, বিচ্ছেদের পরেও আমার আগের স্ত্রী আয়েশার সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। আমাকে ও আমার বর্তমান স্ত্রীকে ফাঁসাতেই আয়েশা এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল। ঘটনার দুইবছর পার হয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত দুই যুবককে শনাক্ত করতে না পারা অত্যন্ত হতাশাজনক।
