১৯ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলেও প্রতিদিনই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ৫৩ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী। সম্প্রতি নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা বকেয়া বেতনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেন। সে সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন ‘বকেয়া ১৯ মাসের বেতন ভুলে যান, চলতি জানুয়ারি থেকে নতুনভাবে বেতন পাবেন।’ এ কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়—বেতনহীন কর্মচারীরা চিৎকার ও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা সটকে যান।

কর্মচারীরা জানান, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিজনের বেতন ২১ হাজার ৫৫০ টাকা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ৮ হাজার টাকা দিত। তাও অনিয়মিত ছিল। পরবর্তীতে হাসপাতালের চাহিদা অনুযায়ী আরও ২৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হলেও তারা এক টাকাও বেতন পাননি। ফলে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ১০-২০ টাকা করে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়েছেন তারা।

তাদের অভিযোগ প্রধান হিসাব সহকারী মোশাররফ হোসেন ও কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে কর্মচারীদের বকেয়া বেতন আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

২০০২ সালে আড়াই হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করা কর্মচারী ঝর্ণা রক্ষিত বলেন, ‘২৩ বছর কাজ করেও চাকরি স্থায়ী হয়নি। ১১ মাস ধরে বেতন নাই। এখন আবার শুনছি চাকরিই থাকবে না-মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।

আবদুর রহিম নামে আরেক কর্মচারী বলেন, এতদিন বলেছে নতুন ঠিকাদার এলে আমাদের বকেয়া বেতন দেবে। সে আশ্বাসে আমরা কাজ করেছি। এখন নতুন ঠিকাদার বলছে শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসের বেতন দেবে। এটা কোনভাবেই মানার মতো না। আমরা স্পষ্ট বলেছি আগে আমাদের ১৯ মাসের বেতন দিবে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কাজ করবো কি করবো না।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী কুলসুম বলেন, ১৯ মাস বেতন নাই। ছেলের মাদরাসার খরচ দিতে পারি না। যে হাতে ভাত খাই, সেই হাতেই হাসপাতালের ময়লা পরিষ্কার করি তবুও আমাদের এ অবস্থা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, তারা পূর্বে যে ঠিকাদারের আওতায় কাজ করতেন তিনি পলাতক রয়েছেন। এজন্যই ১৯ মাস বেতন বকেয়া পড়েছে। তারা আশাবাদী ছিল হয়তো কোন একসময় বকেয়া বেতন পাবেন। যেহেতু পূর্বের ঠিকাদার নেই আইন অনুযায়ী নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার বকেয়া টাকা দেওয়ার সুযোগ নেই।

কর্মচারীরা জানান, বকেয়া বেতন না পাওয়া এবং চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তারা এখন দিশেহারা। তাদের না থাকলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।