ফেনী-২ অর্থাৎ, সদর আসনে এবারের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে এসেছে ভিন্নমাত্রা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকাতে দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে গিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ আসনের নির্বাচন। ভোটের লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির অভিজ্ঞ প্রার্থী, তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে জোট প্রার্থী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও জুলাই আন্দোলনে আলোচিত মজিবুর রহমান মঞ্জু। এছাড়া ভোটের মাঠে রয়েছেন আরও একাধিক তরুণ রাজনৈতিক নেতা।

সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পৈত্রিক জেলা ফেনী। ফলে স্বাভাবিকভাবে ধরে নেওয়া হয়, এ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনই বিএনপির নিরঙ্কুশ আধিপত্য। নবম এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঠিক তাই নির্দেশ করে। এই দুই নির্বাচনে ফেনী-২ অর্থাৎ, সদর আসন হতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটপ্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল)। তবে, এ দুই বছরের ফলাফল শেষ কথা নয়। এ দুই নির্বাচনের ভোটারের চিত্রও এখন আর একইরকম নেই। বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামী পৃথক দুই শিবির হতে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। একাধিক তথ্যে দেখা গেছে, এ আসনে নির্বাচনী প্রতীক নৌকার রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভোট।

বিভিন্ন প্রকাশনা, জেলা নির্বাচন অফিস এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট হতে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে এ আসনে ভোটারের চিত্রে কিছু বৈচিত্র্য লক্ষ করা গেছে। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সৃষ্টি না হওয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ না থাকায় তা তথ্য বিশ্লেষণের আওতাভুক্ত করা হয়নি।

১৯৭৯, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে যথাক্রমে দ্বিতীয়, পঞ্চম এবং সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা গড়ে ৩৬ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পান। এরমধ্যে ১৯৭৯ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৩৪ দশমিক ৬২ শতাংশ অথবা ১৮ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া। ওইবার আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ হতে দুইজন এবং আরও একজন আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচন করেন, তাদের মধ্যে—আওয়ামী লীগ (আ. মালেক) হতে আবদুল মালেক পান ২৮ দশমিক ৯১ শতাংশ অথবা ১৫ হাজার ৪২১ ভোট, আওয়ামী লীগ (মীজান) হতে খাইরুদ্দীন পান এক হাজার ২৩ ভোট এবং স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম সাইদুল হক পান ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট। তৃতীয় এবং চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি।
ফেনী সদর আসনে তৃতীয় ও পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মকবুল আহাম্মদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ ও ২০ দশমিক ৩৬ শতাংশ অর্থাৎ, ২২ হাজার ৮৪৯ ভোট ও ২২ হাজার ৬৭০ ভোট। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট কমে নেমে আসে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে। এরপর ২০০১ এবং ২০০৮ সালে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে। এসময় চারদলীয় জোটপ্রার্থী হয়ে ভিপি জয়নাল ভোট পান গড়ে ৫৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ফেনীর তিনটি আসনের মধ্যে নৌকা প্রতীকের ভোট সদর আসনে উল্লেখযোগ্য। আসনটিতে সর্বাধিক জয় পায় আওয়ামী লীগ। ১৯৭৩ হতে ২০০৮ সাল পর্যন্ত (চতুর্থ ও ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন ব্যতীত) নৌকাপ্রতীকের প্রার্থীদের গড় ভোট ৪৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

১৯৭৯ হতে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দলের বাক্সে ভোটের হিসাব-নিকাশ এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে কার্যকর হবে তা একাধিক প্রশ্নসাপেক্ষ। জেলা নির্বাচন অফিস হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেনী সদর আসে তরুণ ভোটার সংখ্যা (১৮-৩৭বছর) ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৮ জন। যা মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ ভোটারদের বৃহৎ অংশ দেখেনি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। অধিকন্তু জুলাই স্পিরিট, সংস্কার মনোভাবাপন্ন বিশাল ভোটারের হাতে ঘটে যেতে পারে জয়-পরাজয়ের হিসাব। পাশাপাশি নির্বাচনে অনুপস্থিত নৌকা প্রতীকের ভোট পক্ষে আনায় সফলতা জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ চলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচক বিশ্লেষকরা।

এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঁঞা, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে মো. তারিকুল ইসলাম ভূঞা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সামসুদ্দিন মজুমদার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল মার্কসবাদীর (বাসদ) জসিম উদ্দিন, খেলাফত মজলিশের মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন, আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার।

ভোটের মাঠে উপরোক্ত হিসাব-নিকাশ শেষ কথা নয়, একদিকে জামায়াত আসনটি জোটের প্রার্থীর জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি চাপা ক্ষোভ কাজ করছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। প্রকাশ্যে বিরোধিতা না থাকলেও মাঠপর্যায়ে সেই অস্বস্তির প্রতিফলন কতটা ঘটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে বিএনপির ভেতরেও এই আসনের প্রার্থীকে নিয়ে পুরোপুরি ঐকমত্য দেখা যায়নি। এর আগে দলটির একাধিক নেতা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ আসনে রিভিও চেয়ে আবেদন করেছিলেন। ফলে অপ্রকাশ্য মান-অভিমান ভুলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে, এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ৮৮১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ১৯৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তরুণ ভোটার (১৮-৩৭বছর) ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৮ জন। যা মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

ফেনী-২ আসনের একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে সাদৃশ্য পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, এবারের নির্বাচনে অভিজ্ঞতা বনাম নতুন নেতৃত্ব, প্রতিষ্ঠিত দল বনাম বিকল্প রাজনীতি এবং তরুণ ভোট বনাম ভোট ব্যাংক—এই তিন লড়াই গুরুত্ব পাবে।

একজন ভোটার জিয়াউল হক বলেন, জামায়াতের দলীয় প্রার্থী নেই, জোটের প্রার্থীকে জামায়াতের কর্মীরা কীভাবে গ্রহণ করছে সেটিও দেখার বিষয়। অন্যদিকে, বিএনপির ভোট ব্যাংকে আগে জামায়ায়ের ভোট ও ছিল, এবার সেই ভোট নেই।

কলেজ শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, তরুণরাই ফলাফল নির্ধারণে বড় নিয়ামকের ভূমিকা পালন করবে।

ভোট প্রসঙ্গে জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমাদের সর্বোচ্চ জনশক্তি দিয়ে সেটি ভোটের মাঠে বাস্তবায়নে কাজ করব। জামায়াতে ইসলামী সারাদেশে ১১০টি আসন ছেড়ে দিয়েছে জাতীয় স্বার্থে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, বিএনপির প্রার্থীর জন্য দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ। জেলা বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করছে।

তিনি বলেন, অতীতে আন্দোলন সংগ্রাম, জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের সাথে আমরা সরাসরি জড়িত ছিলাম।

তরুণ ভোটার নিয়ে প্রার্থীদের ভাবনা
এবারের নির্বাচনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হওয়ায় জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সৃষ্টি হওয়া দল এনসিপির ও সমর্থন পাচ্ছেন। বিকল্প রাজনৈতিক ধারা, তরুণ নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ঈগল প্রতীকের এ প্রার্থী বলেন, বাংলাদেশে আজ যে অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি ও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার পেছনে তরুণদের দ্বারা সংগঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বড় ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই তরুণদের বড় একটি অংশ ২০০৮ সালের পর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখেনি, এমনকি ভোট দেওয়ার সুযোগও পায়নি। এবারের নির্বাচনে সেই তরুণরাই রায়ের অন্যতম নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠবে। বিভিন্ন জরিপ ও অতীতের ভোটের হিসাব-নিকাশ এবার তরুণদের ভোটে বদলে যেতে পারে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, তরুণরা পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে। তারা অযৌক্তিক সমালোচনা, একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি চায় না। তরুণরা চায় সমস্যার বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট সমাধানভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কিছু প্রার্থী এমন সব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যা সংসদ সদস্যদের এখতিয়ারের বাইরে।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমি তরুণদের কাছে যে কথাটি বলেছি এবং তাতে তারা সাধুবাদ জানিয়েছে। আমি আমার এখতিয়ারের বাইরে কোনো কাজ করব না। ডিসি, এসপি, চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা বিচারকদের দায়িত্বে আমি হস্তক্ষেপ করব না। বরং সরকারের প্রশাসন ও স্বাভাবিক নিয়মিত কার্যক্রমে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখব। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে ‘ছায়া স্থানীয় সরকার টিম’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও নজরদারি শক্তিশালী হয়।

বিএনপি মনোনীতপ্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি দুইবারের সংসদ সদস্য। প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে এ প্রার্থীও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, বিএনপি একটি বড় সংগঠন। আমার আত্মবিশ্বাস ফেনীসহ সারাদেশেই বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে এবং সরকার গঠন করবে। তরুণদের ভোটের পাশাপাশি মহিলা, বৃদ্ধদেরও ভোট বিএনপির ব্যালটে আসবে।

জামায়াতের আলাদা জোট গঠন সম্পর্কে ভিপি জয়নাল বলেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামী এরশাদ সরকার, আওয়ামী লীগের সাথেও নির্বাচন করেছে। তারা বিএনপির জোটে না থাকাতে কোন সমস্যা নেই। জামায়াত এখন যেসব ছোটখাটো দল নিয়ে নির্বাচন করছে তাদের অনেকের নামও আমি জানি না।

ফেনী-২ আসনে গতকাল রোববার পর্যন্ত প্রার্থী রয়েছেন ১১ জন। এ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, তরুণরা আমাকে ভোট দেওয়া ছাড়া অন্যকোন বিকল্প নেই। তরুণদের সম্পূর্ণ অংশই আমার পক্ষে থাকবে। আর কত মুরুব্বিদের ভোট দেবে তারা। অন্য প্রার্থীরা করোনা ও বন্যাকালীন সময়ে শুধু ফটোসেশন করে চলে গেছে, আমি দিনরাত মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস তরুণরা পরিবর্তন চায়, তারা আমাকে একবার সুযোগ দিলে সংসদ সদস্যদের কি কাজ আমি সেটি করে দেখাতে চাই।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী একরামুল হক ভূঁঞা বলেন, তরুণ প্রজন্মের ভোট হাতপাখার পক্ষেই আসবে। আমরা একটি কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখি, তরুণ ও নাগরিক সমাজ উশৃংখলতা চায় না। তারা শান্তিপ্রিয় উদীয়মান প্রার্থীকেই বেছে নেবে।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন অতীতেও ‘নো আওয়ামী লীগ, নো বিএনপি’ নীতিতে ছিল। এখন দুইটি জোটের মাঝে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করলেও এটি আমার জন্য কোন সমস্যা নয়, বরং জামায়াত জোটের বেশিরভাগ ভোট আমি পাব।

ফেনী-২ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী জসীম উদ্দীন বলেন, গণঅভ্যুত্থান এক বিরাট আকাঙ্খা সৃষ্টি করেছিল। এবারের নির্বাচনে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের প্রত্যাশা তরুণদের। পরিবর্তনের পরিপূরক আকাঙ্খা যারা সৃষ্টি করবেন, তারাই তরুণ নবীন ভোটারদের সমর্থন পাবেন।

সদরে ভোটার চিত্র
সদর উপজেলার বয়সভিত্তিক ভোটের চিত্রে দেখা গেছে, এ উপজেলায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৩০৯ জন, ২২ থেকে ২৫ বছরের ৪০ হাজার ৩৫৪ জন, ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৪২ হাজার ৮২০ জন, ৩০ থেকে ৩৩ বছরের ৩৮ হাজার ৪৩১ জন, ৩৪ থেকে ৩৭ বছরের ৪৪ হাজার ৫২৪ জন, ৩৮ থেকে ৪১ বছর বয়সী ৪৩ হাজার ৭৪৬ জন, ৪২ থেকে ৪৫ বছরের ৪১ হাজার ১৯৩ জন, ৪৬ থেকে ৪৯ বছরের ৩২ হাজার ১৬১ জন, ৫০ থেকে ৫৩ বছরের ২৭ হাজার ৩১৩ জন, ৫৪ থেকে ৫৭ বছরের ২২ হাজার ৮২৪ জন, ৫৮ থেকে ৬০ বছরের ১৮ হাজার ৪৯৩ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ভোটার রয়েছেন ৬৫ হাজার ১১০ জন।