স্বাধীনতার পরবর্তী দাগনভূঞা উপজেলার একাংশ ও ফেনী সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় ফেনী-২ সংসদীয় আসন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ নোয়াখালী-২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৬২ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ৫ জন। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাজা আহমেদ ৩৫ হাজার ২১৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদের জয়নাল আবেদিন ১৬ হাজার ৫১৯ ভোট ও ন্যাপের গিয়াস উদ্দিন ১ হাজার ৫৮৮ ভোট পান। ভোট গ্রহণের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান ছিল ১৮ হাজার ৭৯৯।
১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী-২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৯ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল ৯ জন। এতে বিএনপির রফিকুজ্জামান ভূঞা ১৮ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (মালেক) হতে আব্দুল মালেক পান ১৫ হাজার ৪২১ ভোট, আওয়ামী লীগ (মিজান) ১ হাজার ২৩ ভোট, আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম সাইদুল হক (স্বতন্ত্র) ৬ হাজার ২২৯ ভোট, জাসদের ভিপি জয়নাল ৪ হাজার ১০৬ ভোট, হাজী সিদ্দিক আহমদ (স্বতন্ত্র) ৩ হাজার ১১৫ ভোট, জেআইপির ফেরদৌস কোরেশী ৩ হাজার ১৮৬ ভোট পান। ভোট গ্রহণের হার ছিল ৪১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৫ জন প্রার্থী। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়নাল আবেদীন হাজারী ৪১ হাজার ১৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মকবুল আহম্মদ ২২ হাজার ৮৪৯ ভোট, জাসদের (রব) অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ১৯ হাজার ৭৫ ভোট, জাতীয় পার্টির আব্দুস সাত্তার ১৮ হাজার ১০৯ ভোট ও মুসলীম লীগের আবুল খায়ের ৩৪৩ ভোট পান।
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর আসন থেকে অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৬৮ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। এতে আওয়ামী লীগের জয়নাল আবেদীন হাজারী ৪৪ হাজার ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সহিদউদ্দিন ফেরদৌস ৩৭ হাজার ৪৫ ভোট, জামায়াতে ইসলামীর মকবুল আহম্মদ ২২ হাজার ৬৭০, জাতীয় পার্টির জাফরউল্ল্যাহ খান ৪ হাজার ৫৬৯ ভোট, জনতা পার্টির মির আহমদ ৮৭৩ ভোট এবং ন্যাপের ডা. মুজিবুল হক ৬৮৬ ভোট পান। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের হার ৪৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান ছিল ৬ হাজার ৯৫৫ ভোট।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ১৮ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার ৪৪৬ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়নাল আবেদীন হাজারী ৬৮ হাজার ৫৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ৬২ হাজার ৬৪৭ ভোট, জামায়াতে ইসলামীর লিয়াকত আলী ভূঞা ১১ হাজার ৯৩৩ ভোট, জাসদের (রব) জয়নাল আবেদিন ৫ হাজার ৭৭০ ভোট, জাতীয় পার্টির লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাফর ইমাম বীর বিক্রম ১ হাজার ৫০৭ ভোট এবং ইসলামী ঐক্যের নূরুল করিম ৪৬২ ভোট পান। ভোট গ্রহণের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। নির্বাচনে বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান ছিল ৫ হাজার ৯১৯ ভোট।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৭ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ১৫ জন। এতে বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন (ভিপি জয়নাল) ১ লাখ ১৫ হাজার ২৭৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়নাল আবেদীন হাজারী ৬৭ হাজার ২৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আকরাম হোসেন ১ হাজার ৮৬০ ভোট, জাতীয় পার্টির তাজুল ইসলাম ৭২২ ভোট, ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা মাসুম ফারুকী ৫৩১ ভোট পান। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বিজয়ী বিএনপির ভোট ব্যবধান ছিল ৪৮ হাজার ২৫৩ ভোট।
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে (ফেনী সদর) মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৯০৬ জন। ১০৮ টি কেন্দ্রে বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৮৪৯। নির্বাচনে বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ইকবাল সোবহান চৌধুরী নৌকা প্রতীকে ৮৬ হাজার ৭১৩ ভোট পান।
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় ফেনী-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮২ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৪ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিন হাজারী নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি ধানের শীষ প্রতীকে ৫ হাজার ৭৪৮ ভোট পান। তবে এ নির্বাচনটি রাতের ভোট হিসেবে অধিক পরিচিতি লাভ করেছিল।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ১০ হাজার ৭২১ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৮ জন। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির খোন্দকার নজরুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৮৫৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এএসএম আনোয়ারুল করিম ঈগল প্রতীকে ৪ হাজার ৪৮ ভোট পান। এ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি।
