আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, পুলিশ এখনও ফ্যাসিবাদের তাবেদারি করছে। ওসমান হাদিকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া পুলিশ খুনিদের পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরতে পারেনি। অথচ সেই পুলিশই ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা এখনো ফ্যাসিবাদের তাবেদারি করায় ব্যস্ত।
গতকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেনী-২ আসনে ঈগল প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এক সাইকেল র্যালি শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মঞ্জু বলেন, আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশের যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে একটি ষড়যন্ত্রের আভাস দিচ্ছে। যে পুলিশ হাদির খুনিরা কোথায় আছে তা নির্ধারণ করতে পারেনি, তারাই এখন বিচার দাবি করা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমরা তদন্ত চাই, বিচার চাই।
ওসমান হাদীর হত্যার বিচার না হলে সারাদেশ থেকে তরুণরা ঢাকা ঘেরাও করবে। যারা খুনিদের আশ্রয় দিচ্ছে, তাদের শায়েস্তা করা হবে। বাংলার মাটিতে ফ্যাসিবাদের তাবেদারির কোনো ঠাঁই হবে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, পুলিশের উচিত ছিল সংযত ও সহনশীল আচরণ করা। কিন্তু পুলিশের আচরণে যে ক্ষোভ ও হিংসাত্মক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, তা দেখে মনে হচ্ছে ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে একটি রহস্য থাকতে পারে।
তিনি বলেন, সারা দেশে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নির্দিষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসন ও পুলিশ একটি নির্দিষ্ট দিকে ঝুঁকে পড়ছে, এমন আচরণের প্রকাশ আমরা দেখতে পাচ্ছি। এসব লক্ষণ দেখে আরেকটি মহাবিপ্লবের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। এসব আচরণের কারণে তরুণরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছে, মানুষ হতাশ হয়ে যাচ্ছে।
মঞ্জু বলেন, এ ঘটনায় যেসব পুলিশ সদস্য ন্যাক্কারজনক আচরণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এখনও হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তিন দিনের মধ্যে গ্রেফতার না হলে পদত্যাগের কথা জানালেও তার মধ্যে কোনো অনুশোচনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে একটি ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, এ বিষয়ে সরকারকে নজরদারি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা কেন্দ্র দখলের হুমকি দিচ্ছে, মা-বোনদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছে তাদের পরিচয় আমাদের কাছে আছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে ধৈর্য ধরছি। কিন্তু ধৈর্যচ্যুতি হলে এবং অভিযোগ করেও কাজ না হলে, ঘেরাও করে শেখ হাসিনার পরিণতি ভোগ করতে বাধ্য করা হবে।
এদিকে সকালে ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী শহর শাখার উদ্যোগে ঈগল প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত সাইকেল র্যালিতে চার শতাধিক তরুণ অংশ নেন। পাইলট হাই স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
শহর শাখার সেক্রেটারি শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় র্যালিতে অংশ নেন চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবীব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আ.ন.ম. আব্দুর রহিম, শিবিরের সাবেক শহর সভাপতি তারেক মাহমুদ, মইনুল ইসলাম জুবায়েরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
একইদিন দুপুরে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে সম্প্রীতির সভায় যোগ দেন মজিবুর রহমান মঞ্জু। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, এড. গোলাম ফারুক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান,ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য মাজহারুল ইসলাম ও চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবীব। এতে বক্তব্য রাখেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যতন মজুমদার, জয় কালিবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার দাস, খ্রিস্টান ধর্ম থেকে মিল্টন ব্যাপারী, জামায়াত ফেনী শহর হিন্দু শাখার সভাপতি বিকাশ সরকার ও জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ ইয়াসিন।
