মাটি ব্যবসা, মাদক, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ফেনী সদরের শর্শদিতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হচ্ছে শর্শদীর সাইফুল ইসলাম ও নোয়াবাদ গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে আফসার। তবে আগুন দেওয়ার ঘটনার মূলহোতা যুবদল থেকে বহিষ্কৃত জাফর আহমেদ মানিক এখনো অধরা রয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনা ছাড়াও মানিক দেবীপুরে হাঁসের খামারে চাঁদাবাজি মামলার এজাহারনামীয় আসামি বলে জানা গেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীনুল ইসলাম জানান, এ মামলায় জাফর আহম্মদ মানিকের ভাই সাইফুল ও আফসারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মানিককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর গ্রামে ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের সভাপতি ও শর্শদি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন শিবলুর ঘরে আগুন লাগানো হয়। তিনি দাবি করেন, আগুন দিতে গান পাউডার ব্যবহার করা হয়েছে। যার কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কেবল পরনের কাপড়চোপড় ছাড়া আর কিছু বাঁচানো যায়নি। আমি স্টার লাইন পাম্পের সামনে এসআই মো. আবদুর রহমান গাজীকে আমার ভাইয়ের উপর হামলা এবং খালাতো বোনের গলায় ছুরি ধরার বিষয়ে জানাই। তখন দেখতে পাই আমার বাড়িতে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। 

এ ঘটনায় মানিককে প্রধান আসামি করে শনিবার রাতে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন শিবলু।

শিবলুর চাচাতো ভাই মহিউদ্দিন বাবর বলেন, শিবলুদের ঘরে আগুনে দেওয়ার ঘটনায় জাফর আহম্মদ মানিক তার অনুসারীদের নিয়ে ১৯টি মোটরসাইকেল, ৮টি সিএনজি অটোরিকশা করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। পরে শিবলুদের ঘরে গান পাউডার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহুর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে যায়। অল্পের জন্য আমাদের ঘর রক্ষা পেয়েছে। মানিকের ঘর তল্লাশী করলে গান পাউডার ও অস্ত্র পাওয়া যাবে।

উত্তর ফতেহপুরের স্থানীয় খোরদেশ আলম বলেন, শুক্রবার মাগরিবের নামাযের পরে মানিক ও আলাউদ্দিনসহ তাদের সহযোগিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

একই এলাকার প্রবাসী জাফর আহমেদ জানান, শিবলু এলাকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মানিক ও আলাউদ্দিনসহ তাদের সহযোগিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছোট ভাই আবু সাইদ জিহাদকে মেরে হাত ভেঙে দেয়। এরপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ঘরে গান পাউডার দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

গানপাউডার ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম জানান, এ বিষয়ে তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না। তবে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি আরও জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তবে তদন্ত করে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।