ফেনীতে বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ভোজ্যতেল মোড়কজাত করে বাজারজাত করায় তাকিয়া রোডের দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) ফেনীতে ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র‌্যাব সদস্যদের অংশগ্রহণে শহরের ইসলামপুর রোডে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অ‌নিরাপদ, অস্বাস্থ‌্যকর ও নোংরা প‌রি‌বে‌শে ভোজ‌্যতেল মোড়কজাত করা এবং ক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ না করায় মেসার্স ক‌বির এন্ড সন্স নামের এক‌টি প্রতিষ্ঠান‌কে নিরাপদ খাদ‌্য আইন অনুসারে ২ লাখ টাকা জ‌রিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চয়ন বড়ুয়া। এছাড়া অতিরিক্ত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি, ক্রয়ের রশিদ না রাখা এবং অস্বাস্থ‌্যকর প‌রি‌বে‌শে মোড়কজাত করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুসারে একই সড়কের মেসার্স হাজী নূর আহ‌মেদ এন্ড সন্স‌কে ৫০ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়। ভোক্তা অ‌ধিকা‌রের সহকারী প‌রিচা‌লক মো: আছাদুল ইসলাম এ জরিমানা করেন।

অভিযানে আরও অংশ নেন জেলা নিরাপদ খাদ‌্য অ‌ফিসার শামসুল আ‌রে‌ফিন, জেলা নিরাপদ খাদ‌্য প‌রিদর্শক আব্দুর রহমান, কৃ‌ষি বিপণন অ‌ধিদপ্ত‌রের মাঠ ও বাজার প‌রিদর্শক হারুনুর র‌শিদসহ র‌্যাবের একটি দল।

জেলা নিরাপদ খাদ‌্য অ‌ফিসার জানান, জরিমানাকৃত কবির এন্ড সন্স নামীয় প্রতিষ্ঠানটি ড্রামের খোলা পাম তেল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মোড়কজাত করে বিক্রি করছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেল পরিবহণে ব্যবহার করা হয় নন-ফুড গ্রেডেড উপকরণে তৈরি কেমিক্যাল, লুব্রিকেন্ট, মবিল বা অন্যান্য পণ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত ড্রাম। এসব অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর ড্রামে সরবরাহকৃত ভোজ্যতেল স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। প্লাস্টিক ড্রাম বারবার ব্যবহারের ফলে ভোজ্যতেল বিষাক্ত হতে পারে। ড্রামের খোলা ভোজ্যতেলে ভেজাল মেশানোর সুযোগ থাকে।