দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ‘লেমুয়া ব্রিজ’ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি ফিতা কেটে ব্রীজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা, উপজেলা প্রকৌশলী দীপ্ত দাশ গুপ্ত, পৌর বিএনপির আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বিরসহ সরকারী কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লেমুয়া ও ধলিয়া ইউনিয়নের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল কালীদাস পাহালিয়া নদীর উপর নির্মিত লেমুয়া ব্রিজ। পূর্বে যাতায়াতের মাধ্যম ছিল কাঠের সাঁকো। সেটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় গত ১৯৯৬ সালে একটি স্টীলের ব্রীজ তৈরি করা হয়। পরে সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে এ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত হয়। যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকরা বছরের পর বছর ধরে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতে ও যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছিল। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্টিলের ব্রীজের অবশিষ্ট অংশ খুলে সেখানে নতুন ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। পাশে সাময়িক চলাচলের জন্য কাঠের সাঁকো রাখা হয়। গত ২০২৪ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় কাঠের সাঁকোটি ভেসে যায়।
এলজিইডির ফেনী সদর উপজেলা প্রকৌশলীর দীপ্ত দাশ গুপ্ত জানান, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় কালিদাস-পাহালিয়া নদীর ওপর ৮৫.০৬ মিটারের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ ১২ কোটি ৮৪ লাখ ৬ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করেছে। ব্রিজটি নির্মাণের ফলে ধলিয়া, নবাবপুরসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হবে।
ব্রিজ নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারী বাবুল চৌধুরী বলেন, ২০২৩ সালে কাজটি শুরু করার পর ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। এর কিছুদিন পর ফেনীতে ভয়াবহ বন্যায় ব্রিজের নির্মাণ সামগ্রি ভেসে যায়। অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে ব্রিজটি নির্মাণ করতে হয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রিজ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়।
লেমুয়ার চাঁদপুর আদর্শ সমাজের সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আলী মনসুর সুমন জানান, ব্রিজটি চালু হওয়ার ফলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। গত দুই বছর ধরে চলাচলে মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বর্তমানে ব্রিজটি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনীতির গতি বাড়বে।
লেমুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফেরদৌস কোরাইশী বলেন, কালীদাস পাহালিয়া নদীর উপর নির্মিত স্ট্রীলের ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর এলাকার কৃতিসন্তান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব ও আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রদূত সৈয়দ হাসান আহমেদ এখানে নতুন ব্রীজ নির্মাণের জন্য প্রচেষ্টা চালান। তার প্রচেষ্টায় এখানে ব্রিজটি নির্মাণ হয়। এ ব্রিজটির পাড়েই ফেনীর প্রাচীন লেমুয়া বাজার রয়েছে। ব্রিজটি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার আমুল পরিবর্তন ঘটবে।
