ফেনীতে চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারের নিহত প্রসূতি নাঈমা আক্তার লিজার (২১) মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পৈতৃক বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া দমদমা এলাকায় মরদেহ পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে।
নিহত লিজা একই উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
এর আগে, ফেনী শহরের ‘ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিক’-এ চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগ ওঠে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটি সিলগালা করে।
স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রসবব্যথা শুরু হলে প্রথমে লিজাকে লস্করহাটের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে এক নার্সের মাধ্যমে তাকে শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওই ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে দ্রুত সিজার অপারেশনের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ২২ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। রাত ১০টার দিকে ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা তার সিজার অপারেশন করেন।
অপারেশনের পরপরই লিজার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্বজনরা জানান, বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও তারা তা গুরুত্ব দেয়নি এবং স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যায়। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে তাকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হয়, তবে তাতেও কোনো উন্নতি হয়নি।
পরবর্তীতে স্বজনদের চাপে তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক দ্রুত চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের বাবা নুর করিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার একমাত্র মেয়েকে ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার একটা মাত্র মেয়ে ছিল। ভুল চিকিৎসা করে আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলেছে। তার আরও দুইটা ছোট ছেলে আছে—এখন তাদের দেখবে কে, তা আল্লাহই জানেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি মামলা করবেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
