ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. বাকের হত্যা মামলায় সহসা আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি শরিফ মোল্লাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানাধীন বোগদাদিয়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ মামলার প্রধান আসামী শরিফ মোল্লাকে ১৭ ডিসেম্বর রাতে সাতকানিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে লেমুয়া দেয়ানজি বাড়ির পুকুরপাড় এলাকায় ওই ব্যবাসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার সঙ্গে থাকা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী খালেদা আক্তার তিনজনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করেন।
পরে গত ১১ ডিসেম্বর রাতে লেমুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরিফ, লেমুয়ার মাষ্টারপাড়ার মুহুরী বাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে মো. শাহজাহান সুমন (২৪) ও সোনাগাজীর নবাবপুর ইউনিয়েনের সৈয়দ ভূঞা বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. শাকিল খান রনি (২২) এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১২ ডিসেম্বর সুমন ও রনি ১৬৪ ধারায় ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাঁদের জবানবন্দি অনুযায়ী হামলার ঘটনায় মূল ভূমিকা ছিল শরিফের। শরিফ মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাকেরকে আঘাত করেছিল। ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। লুট করা টাকাগুলো তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করেছে।
১০ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের আইউসিইউতে মারা যান বাকের। নিহত বাকের লেমুয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের খায়েজ আহম্মেদের ছেলে। তিনি ছিলেন ৪ সন্তানের পিতা। এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবিতে মহাসড়কে বোগদাদিয়া তদন্ত কেন্দ্র ঘেরাও বিক্ষোভ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
