রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ফেনী ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১১টা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে ন্যায় বিচার দাও, সমাজ বাচাঁও, ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, নারীকে মানুষ ভাবতে শিখুন বস্তু নয়, আ্যন্ড রেপ কালচার, এভরি ভিকটিম ডিজার্ভস জাস্টিস, সেফটি ইজ এ রাইট, নট এ প্রিভিলেজ, রেইজ ইওর ভয়েস এগেইনস্ট ভায়োলেন্স, স্টপ রেপ, এনসিওর জাস্টিস, ডিলেইড জাস্টিস ইজ ডিনাইড জাস্টিস, নো মোর সাইলেন্স এগেইনস্ট রেপ নানা স্লোগানে নারীর নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জোরালো বার্তা তুলে ধরা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে বলেন, ছোট্ট শিশু রামিসা ধর্ষকের পাশবিক হাত থেকে রেহাই পায়নি। তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা মানবতার চরম অবক্ষয় ও সমাজের জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত। তারা বলেন, এমন জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। অভিযুক্তদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দেশের প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।

বক্তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজের নিরাপত্তা ও নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শুধু কঠোর আইন প্রয়োগই নয়, পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা জোরদার করার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

সাজিদ ভূঞা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, রামিসা, নুসরাত, তনুসহ সকল ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব, যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

আমরা দাবি জানাই, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০; শিশু আইন, ২০১৩; এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

সানজিদা সায়িমা নামে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে। শুধু আইন নয়, সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, না হলে এ ধরনের ঘটনা থামবে না।’

এমদাদ রেদোয়ান নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে তা কার্যত ন্যায়বিচার অস্বীকারের শামিল। রামিসার হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ট্রেজারার ড. মাসুদুল হক চৌধুরী, রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড.মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক আহমদ মাহবুব-উল-আলম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক সোহরাব হোসেন, ডেপুটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান টিপু, প্রক্টর ও আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহফুজুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা সুদীপ দাস, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আয়াতুল্লাহ, প্রভাষক তানজিলা মুবাশ্বিরা। 

ল মুটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মহিবুল হক শাফির সঞ্চালনায় স্টুডেন্টস' ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এমএ আরাফাত, ল ব্লাড সেলের সাধারণ সম্পাদক মো. আরফান হোসেনসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।