ফেনীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলা চলাকালীন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এক শিক্ষিকার উৎসাহ দেওয়ার একটি ভিডিওচিত্র নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে শহরের সেলিনা পারভীন সড়কে ওই শিক্ষিকার বাসায় গিয়ে উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মনিরা হক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনালে অংশ নেন সদর উপজেলার গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেদিন ম্যাচ চলাকালীন গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীন তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন। খেলা চলাকালীন সেই মুহূর্তের একটি ভিডিওচিত্র দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ইতিবাচক সাড়া পড়ে। পরবর্তী সেটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর নির্দেশনা পেয়ে জেলা প্রশাসন ওই শিক্ষিকার বাড়িতে উপহার নিয়ে যান।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবদুল মতিন বলেন, সেদিন এ মুহূর্তটি আমার মোবাইলে ধারণ করেছিলাম। আমাদের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক শিক্ষকের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসা অনেক বড় পাওয়া। এমন উদ্যোগ আগামীতে শিশুদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষকদের সম্পৃক্ততায় ইতিবাচক বার্তা দেবে।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীন বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সবসময় নিজের সন্তানের মতো আচার-আচরণ করার চেষ্টা করি। আমার বাবা-স্বামীও ক্রীড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সেই অনুপ্রেরণায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সবসময় নিজে মাঠে থেকে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করি। এবারও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের একটি খেলা চলাকালীন কেউ একজন অপ্রস্তুত অবস্থায় একটি মুহূর্তের ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পরবর্তী সেটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসায় আজ উপহার পাঠিয়েছেন। বিষয়টি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ফুটবল খেলা চলাকালীন সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীন ম্যাডাম বৃষ্টিতে ভিজে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন। তখনকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তারপর আজ নির্দেশনা পেয়ে ওই শিক্ষিকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার নিয়ে এসেছি। শিক্ষিকার এমন উৎসাহ দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণামূলক ও অত্যন্ত ইতিবাচক।
এ সময় ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সৌভিক রায়, মো. শাহরিয়ার সজল, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবদুল মতিন, গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেনা সুলতানা, সহকারী শিক্ষক শাহিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, শিক্ষক খালেদা ছাত্রজীবনে ব্যাডমিন্টন ও হ্যান্ডবল খেলোয়াড় ছিলেন। তার স্বামী প্রয়াত গোলাম রব্বানী ছিলেন ফুটবল প্রশিক্ষক এবং ভাই মো. মামুন ছিলেন ফুটবল খেলোয়াড়।
