গত বছরের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে নিহত টমটম চালক মো. সবুজ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ফেনী সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাঃ সিরাজুদ্দৌলাহ কুতুবীর আদালতে ১২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় এটিই প্রথম মামলা, যার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২৩ জুন এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. মেজবাহ উদ্দীন খান বলেন, মহিপালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলায় প্রথম চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়েছে। এ মামলায় ১২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমসহ ৭১ জন পলাতক রয়েছেন। এছাড়া মামলায় চার্জশিটভুক্ত ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী কারাগারে রয়েছেন।

পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা জানান, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর এ মামলায় ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট গ্রহণ করা হয়। মামলার শুরু থেকে ৭১ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। এছাড়া এ মামলার ৭ জন আসামি কারাগারে ও ৪৬ জন জামিনে রয়েছেন।

গত ৯ ডিসেম্বর এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক মিয়া এজাহারভুক্ত ৬৫ জন ও তদন্তে প্রাপ্ত ৫৯ জনসহ মোট ১২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। গত ১২ ডিসেম্বর আদালত চার্জশিট পর্যালোচনা করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপাল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত হন পেশায় টমটম চালক মো. সবুজ। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তার ভাই মো. ইউছুপ বাদী হয়ে ৬৫ জনের নাম উল্লেখ ও ৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

ফেনী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে হতাহতের ঘটনায় ২৪টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৭টি হত্যা মামলা ও ১৭টি হত্যাচেষ্টা এবং সহিংসতার অভিযোগ।