নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনাতেও ফেনীতে পাঠ্যবই সংকট কাটেনি। বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে প্রয়োজনীয় বই পৌঁছানোর লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। জেলায় প্রাথমিক স্তরে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক ও দাখিল পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা এখনো পূর্ণাঙ্গ সেট পাচ্ছে না। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ দুই স্তরে পাঠ্যবইয়ের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অসম্পূর্ণ থাকায় বছরের প্রথম দিনেই সব বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, ফেনীতে মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৫ জন এবং মাদরাসায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫ জন। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ইবতেদায়ি (১ম-৫ম শ্রেণি) মোট বইয়ের চাহিদা ৪ লাখ ৫৯ হাজার ১০০টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৩ লাখ ৫ হাজার টি যারমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ২০০টি।

দাখিলে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৬৮০টি ও বিতরণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার ২০০টি। এতে বই মোট প্রাপ্তির হার ৬২ শতাংশ।

এছাড়া মাধ্যমিকে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৫টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৬০টি ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৮০০টি। এতে মোট প্রাপ্তির হার ৪৫ শতাংশ। ইংরেজি ভার্সন (৬ষ্ঠ-৯ম) মোট চাহিদা ৯ হাজার ৭০০ টি যার মধ্যে এখনো বই পাওয়া যায়নি।

একই দপ্তরের তথ্যনুযায়ী, ভোকেশনাল মোট বইয়ের চাহিদা ৩১ হাজার ৭৭০ টি যারমধ্যে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ২৫ হাজার ৩২৫ টি এবং বিতরণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৫০টি।

এদিকে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের প্রথম দিনেও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত কোনো পাঠ্যবই পায়নি।

ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণির জন্য কোনো বই আসেনি।

একই কথা জানান ফেনী পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বিপুল সরকার। তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে।

বই না পেয়ে হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন,নতুন বছর শুরু হলেও এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বই পাইনি। বই ছাড়া কীভাবে ক্লাস করব বুঝতে পারছি না।

তানজিম আহমেদ নামে আরেক বলেন, ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির ভাইদের হাতে বই দেখছি, শুধু আমাদের শ্রেণির বই নেই। এতে আমাদের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আবদুল মান্নান বলেন, অন্যান্য শ্রেণির বই শতভাগ পেলেও শুনেছি ৮ম শ্রেণির বই এখনো জেলায় আসেনি। কবে আসবে সে নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকে জেলায় মোট বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৫ লাখ ৬২ হাজার ৯২৮টি। চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে জেলার ৫৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে। ফেনীর ছয় উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় বরাদ্দকৃত বই ২ লাখ ৯ হাজার ৬২২টি, দাগনভূঞায় ৯১ হাজার ৬৭০টি, সোনাগাজীতে ১ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি, ছাগলনাইয়ায় ৫৯ হাজার ৬৪৪টি, পরশুরামে ৪২ হাজার ৫৮২টি ও ফুলগাজীতে ৫০ হাজার ১০টি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চ. দা.) ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকে ইতোমধ্যে চাহিদা শতভাগ বই এসেছে। সবগুলো বিদ্যালয়ে বই পৌঁছে গেছে। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা শতভাগ নতুন বই হাতে পাবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফী উল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ বই এসেছে। প্রতিদিন বই আসছে। বছরের শুরুর দিনে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাবে না। চাহিদার শতভাগ বই কবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ৮ম শ্রেণির বই না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৮ম শ্রেণির বই এখন পর্যন্ত আসেনি। আশা করছি খুব শ্রীঘই বই পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে শুরু হয়েছিল নতুন কারিকুলামে পাঠদান। এক বছরের মাথায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আবারও গতবছর পূর্বে কারিকুলামে ফিরে যায় শিক্ষাব্যবস্থা।