ফুলগাজী উপজেলায় বছরের প্রথম দিনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হলেও মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বই না পেয়ে হতাশ হয়ে মলিন মুখে বাড়ি ফিরে গেছে।এতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পাঠ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, নতুন বছরের প্রথম দিনে বই পাওয়ার আশায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও বই না থাকায় অনেকেই শ্রেণিকক্ষ ছাড়তে বাধ্য হয়। দিন শেষে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট ছিল।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির বই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হলেও ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো বিতরণ করা হয়নি।

মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ের চাহিদা ছিল ২৬ হাজার ৬০০ কপি সপ্তম শ্রেণির ২৬ হাজার ৬০০ এবং অষ্টম শ্রেণির ২৮ হাজার কপি।এই তিন শ্রেণির কোনো বই এখনো বিতরণ হয়নি। তবে নবম শ্রেণির ২৭ হাজার ৩৪০ কপি চাহিদার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৯৬০ কপি।

মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সংকট রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৯ হাজার ৭৫০ কপির বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৮০ কপি। সপ্তম শ্রেণির ৯ হাজার ৭৫০ কপি বই এখনো বিতরণ হয়নি। অষ্টম শ্রেণিতে ১০ হাজার ৫০০ কপির বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কপি এবং নবম শ্রেণিতে ৮ হাজার ৪০ কপির বিপরীতে ৬ হাজার ৬২৫ কপি বই বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসাইন জানান, নবম শ্রেণির বই চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া গেছে। তবে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো সরবরাহ হয়নি।

অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বই বিতরণ কার্যক্রম ছিল সুশৃঙ্খল। উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৯০ কপি বইয়ের চাহিদা শতভাগ পূরণ করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে মুন্সীরহাট আলী আজম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত বই বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষার চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিচালক ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন, ফুলগাজী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কাশেম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা বেগমসহ শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠান শেষে প্রাথমিক শিক্ষার চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিচালক ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ফুলগাজী উপজেলায় ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি মাদ্রাসা এবং ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত শোক দিবসের কারণে উপজেলার কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসব আয়োজন করা হয়নি।