আইনি জটিলতায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। সারা বছর প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষায় বসতে না পেরে ক্ষোভ জানিয়ে আসছিল শিক্ষার্থীরা। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেরিতে হলেও আগামীকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে এ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর, ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অংশ নেবে। এতে পঞ্চম শ্রেণির সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই ৫টি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফেনীতে ৭টি কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনসহ ৬৬১টি বিদ্যালয় থেকে ৫ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৮ ছাত্র এবং ৩ হাজার ২৫৯জন ছাত্রী। ফেনী সদর উপজেলার জিএ একাডেমী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১১৬টি বিদ্যালয়ের ৮৬২ জন, ফেনী আলিয়া মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭০টি বিদ্যালয়ের ১ হাজার ২৮ জন, দাগনভূঞায় আতার্তুক সরকারি মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রে ১২৫টি বিদ্যালয় থেকে ৯৯১ জন, সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল কেন্দ্রে ১৩০টি বিদ্যালয়ের ৮৩৯জন, ছাগলনাইয়ার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯২টি বিদ্যালয় থেকে ৬৬০জন, পরশুরাম সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫৫টি বিদ্যালয়ের ৪৪৯ জন, ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৩টি বিদ্যালয়ের ৫১৮জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এছাড়া ইংরেজি মাধ্যম থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী ফেনী আলিয়া মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেবে। পরীক্ষা গ্রহণে ১১৬ জন শিক্ষক, ৪০ জন নিরীক্ষক ও ২৪ জন প্রধান পরীক্ষকসহ ১৮০ দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা অফিসার ফরিদ উদ্দীন আহাম্মদ জানান, পরীক্ষা গ্রহণের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা ট্রেজারি হতে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন। পরীক্ষার জন্য ১৪৪ ধার জারি করে মাইকিং করে অবহিত করা হবে।
অন্যদিকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার ৪ মাস পর এই পরীক্ষা আয়োজনের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি পড়ার চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেছেন অভিভাবকরা। তারা বলেন, তারা এখন পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে গেছে। নতুন ক্লাসে, নতুন পাঠ্যবইয়ে প্রায় চারমাস পড়ালেখাও করেছে। পঞ্চম শ্রেণির সেই পাঠ্যবই-নোট-গাইড কিছুই নেই তাদের হাতে। পড়ালেখা নিয়েও তালগোল পাকিয়ে ফেলছে সদ্য মাধ্যমিকের গণ্ডিতে পা রাখা শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে ফেনী জেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন সভাপতি মামুনুর রশিদ জানান, বর্তমান সরকারকে সাধুবাদ জানাই পরীক্ষা গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। তবে পরীক্ষায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অংশ নেবে না। তাদের অনেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিমুখি। এ কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেনী জেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাং আলমগীর চৌধুরী জানান, সরকার আইনি জটিলতার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি। বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পরীক্ষার্থীদের তেমন প্রভাব পড়বে না। যারা বৃত্তি পাবে তারা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাবে। বৃত্তি পরীক্ষা না হলে তারা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। মেধা বিকাশে শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা উচিত।
