ফেনীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত জেলার ১০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। ফেনীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯২টি শূন্য সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে ৮ হাজার ৪২৯ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৯০ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর আগে ২ জানুয়ারি পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক থাকায় সেটি পেছানো হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার পরীক্ষাকেন্দ্রে ১৪৪ ধারার বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে মাইকিং করা হবে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাতিমা সুলতানা জানান, পরীক্ষাগ্রহণে ১০টি কেন্দ্রে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করবেন। পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলার ১০টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ফেনী সরকারি কলেজ কেন্দ্র-১ এ ১ হাজার জন, ফেনী সরকারি কলেজ কেন্দ্র-২ এ ১ হাজার জন, ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭০০ জন, ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭০০ জন, সরকারি জিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ১ হাজার জন, জয়নাল হাজারী কলেজ কেন্দ্রে ১ হাজার জন, আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে ১ হাজার ১২৯ জন, ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে ৫০০ জন, ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুল কেন্দ্রে ৮০০ জন এবং ফেনী গিরিশ-অক্ষয় একাডেমি কেন্দ্রে ৬০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন।

উপজেলাভিত্তিক শূন্য পদের তথ্য অনুযায়ী ফেনী সদর উপজেলায় ১৭টি, দাগনভূঞা উপজেলায় ১৬টি, সোনাগাজী উপজেলায় ৩১টি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ১৪টি, ফুলগাজী উপজেলায় ১২টি এবং পরশুরাম উপজেলায় ২টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলায় শূন্য পদ সর্বাধিক এবং পরশুরাম উপজেলায় সর্বনিম্ন।

প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মহিউদ্দিন খোন্দকার বলেন, ফেনী সদর উপজেলায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে বদলি হয়ে আসা সহকারী শিক্ষকরা যোগদান করায় সদর উপজেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ কোটা পূরণ হয়ে গেছে। ফলে এখানে শূন্য পদ কমে গেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় মেধাবী ছেলে-মেয়েরা সহকারী শিক্ষক চাকরির সুযোগ থেকে চরম বঞ্চিত হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, ফেনী জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৯২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে ৮ হাজার ৪২৯ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন। পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও প্রতিকেন্দ্রে ২জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।