২০২৫ সালের জুনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষার ফলাফল সম্প্রতি কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৮ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১৭ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। উপজেলার ৮টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ সাফল্য অর্জন করেছে।
ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে প্রাচ্যা ভৌমিক প্রচীর, আতাউর রহমান ও পার্থ দেব নাথ বৃত্তি পেয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্বের এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
ট্যালেন্টপুলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী প্রাচ্যা ভৌমিক প্রচীর জানায়, নিয়মিত পড়াশোনা ও শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাই তাকে এ সাফল্য এনে দিয়েছে এবং পিতামাতার ২য় সন্তান প্রচীর ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ফুলগাজী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে শ্রেয়সী হাজারী, আগ্রতা কর্মকার ও মুমতাহিনা প্রিয়ন্তী তিথি এবং সাধারণ গ্রেডে মালিহা বিনতে মোশাররফ, শেখ তানজিনা আক্তার, পায়েল দেব নাথ, সমাপ্তি সুলতানা, তানিফা আক্তার তারিন, মুনতাহা রহমান মিমি, আয়েশা আক্তার ও মরিয়ম আক্তার বৃত্তি অর্জন করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন বলেন, মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য প্রতিষ্ঠানটির জন্য আনন্দের বিষয়।
আলী আজম স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ট্যালেন্টপুলে সাওদা সুলতানা এবং সাধারণ গ্রেডে কাজী হুমায়রা ইসরাত, ফারজানা সুব্রত ও মোহতাসিম মাহমুদ বৃত্তি পেয়েছে। অধ্যক্ষ মোঃ আবু তাহের মজুমদার বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।
বসন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বৃত্তি পেয়েছে।
সাধারণ গ্রেডে করইয়া কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সিদরাতুল মুনতাহা বৃত্তি অর্জন করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল বারী এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।
আনন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ সাফওয়ান ভূঁইয়া সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী ইকবাল হোসেন শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন।
এছাড়া আজমিরী বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আরিশা রহমান ভূঁইয়া ও নাদিয়া সুলতানা মাইশা এবং নোয়াপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জান্নাতুন নাইমা ও নাসরিন জাহান সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে।
ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সাফল্য উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পরিশ্রমের ফল। একাডেমিক সুপারভাইজার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে লেখাপড়া করে দেশ ও জাতি গঠনে অবদান রাখবে বলে আশাবাদী।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮, ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ফুলগাজী উপজেলার ২৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
