ছাগলনাইয়া-মুহুরীগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজে নিম্ন মানের কাজের অভিযোগে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে বিটুমিন স্প্রে করার পর ছোট আকারের যেসব পাথর বসানো হয় তা গাড়ি চলাচলের সময় সড়কের পাশে ছিটকে পড়ছে। অধিকাংশ স্থানে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেও সড়কের বেহাল দশায় হতাশ স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করে পাথর বসানোর কারণে তা সড়কে টেকসই ভাবে থাকছে না। গাড়ি চলাচলের সময় পাথরগুলো পথচারী কিংবা যানবাহনের যাত্রীদের চোখে ও শরীরে ছিটকে পড়ছে। অন্যদিকে, সড়কে ধারালো পাথর বসানোর কারণে প্রতিদিন গাড়ি চাকা নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহজাহান মজুমদার আজাদের অভিযোগ, ছাগলনাইয়া-মুহুরীগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজ যে নিম্নমানের হচ্ছে তা বিগত ৫০ বছরেও দেশের কোথাও হয়নি। এ সড়কের সংস্কার কাজ লোক দেখানো কাজ হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিটুমিনের পরিবর্তে পোড়া মবিল দিয়ে পাথর ঢালাই করাতে তা টিকছে না। তার অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করার বিষয়ে ঠিকাদারের সাথে কথা বললে তারা উপরে মহলের লোকজন ম্যানেজ করে কাজ করছে বলে হুমকি প্রদর্শন করে।
আনোয়ার হোসাইন জানান, সড়কের যেসব স্থানে ১৫-২০ দিন পূর্বে কার্পেটিং করেছে সেই স্থান দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় এখনো পাথর উঠে যাচ্ছে। এতে করে জনজীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এমন নিম্নমানের কাজ না করে সড়কটি পূর্বের অবস্থায় থাকলে ভালো হতো। সিএনজি অটোরিকশা চালক রিপনের অভিযোগ, সড়কে ধারালো পাথর বসানোর কারনে প্রতিদিন বিভিন্ন গাড়ির চাকা পাংচার হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংস্কার কাজের চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ডিজাইনের প্রতিনিধি আবুল খায়ের লিংকন দৈনিক ফেনীকে জানান, ছাগলনাইয়া-মুহুরীগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজটি ফেনী জেলায় প্রথম ডিবিএসটি পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে। এ কাজের ধরন অনুযায়ী সড়কে পাথর বসানোর পর কিছু পাথর উঠে যাবে। পরবর্তী ধাপে পুনরায় পাথর বসানোর পর কাজের গুনগত মান বাড়বে। তবে যেসব স্থানে বৃষ্টির কারণে পাথর উঠে গেছে সেখানে পুনরায় পাথর স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট (ডিবিএসটি) পদ্ধতিতে ছাগলনাইয়া-মুহুরীগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজের বরাদ্দ প্রদান করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ সড়কের বিভিন্ন সংস্কার কাজে মোট ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও শুধু ডিবিএসটি কাজের বরাদ্দ ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে ফেনী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, টেকসই কাজ করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ছাগলনাইয়া-মুহুরীগঞ্জ সড়কে ডিবিএসটি পদ্ধতিতে কার্পেটিং কাজের বরাদ্দ প্রদান করা হয়। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে এ কাজের মান ফুটে উঠবে। তবে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারহানা পৃথা জানান, ছাগলনাইয়া-মুহগরীগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
