পরশুরামের সীমান্তবর্তী বল্লামুখার বেড়িবাঁধে কেটে মাটি ও বালু লুটের ঘটনা ঘটেছে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফেনী জেলা প্রশাসক মুনিরা হকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে বল্লামুখা বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক মনিরা হক বাঁধের পাশ থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, বাঁধের ভেতর থেকে বালু উত্তোলন কেন করা হয়েছে, এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ছাড়াও থানা পুলিশকে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ভয়াবহ বন্যায় সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মুহরী নদী সংলগ্ন বল্লামুখার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। মানুষের ফসল সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পানির প্রবল স্রোতে পরশুরাম উপজেলায় দুই জনসহ জেলায় অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু ঘটে। বন্যা শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড বল্লামুখা বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন কবলিত অংশ মেরামতের প্রায় ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও বেড়িবাঁধের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এর সাথে অভিযোগ উঠে বাঁধের আশপাশে ফসলি জমির মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করছে ঠিকাদারের নিয়োজিত লোকজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিজ কালিকাপুর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় কবির আহম্মদ, শাহ আলম, এয়াকুব ও বাসপদুয়া গ্রামেন মিলনসহ একটি চক্র মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত। কবির আহম্মদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। বাঁধের মাটি বা বালু কাটার সঙ্গে জড়িত নন। বাসপদুয়া গ্রামের মিলন বলেন,বন্যায় কৃষকের জমিতে বালুর স্তুপ পরে যাওয়া কিছু বালু কিনেছি।
স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করে বলেন,বাঁধে পুরনো ব্লক দেওয়া হচ্ছে। ২৫/৩০ বছরের পুরনো এসব ব্লকগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।এসব ব্লক দিয়ে বাঁধ টিকিয়ে রাখা যাবে না। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, বাঁধে পুরনো ব্লক ব্যবহার করা যাবে না। এসব বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে লিখিত জানতে চাওয়া হবে।
বাঁধ পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সাদিয়া সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম শাফায়াত আকতার নূর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ কাজ ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও গত দেড় বছরে ৫০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে আবারো বন্যার কবলে পড়তে এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন,অভিযোগের ভিত্তিতে বল্লামুখা সরজমিনে গিয়েছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
