ফেনীর ‎পরশুরাম সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে (এইচএসসি) নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরমপূরণ করাতে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
 
‎কলেজ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী পরীক্ষায় ২৯২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে মাত্র ৩২ জন সকল বিষয়ে কৃতকার্য হয়। ২৬০ জন অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ তিন বিষয়ে অকৃতকার্যদের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ফরমপূরণে করাতে সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। ‎গত কয়েকদিন ধরে তিনয়ের অধিক বিষয়ে অকতকার্য শিক্ষার্থীরা ফরমপূরণ করতে কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়। পরে রোববার দুপুরের দিকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ফরমপূরণের দাবিতে কলেজে বিক্ষোভ করে প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিক্ষোভ চলাকালে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এসময় দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার, অপু, রনি, আমজাদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ৪-৬বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেরকে ফরমপূরণ করানো হয়েছে। পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য খাদিজাতুল কোবরা (রোলঃ ১০২২), চার বিষয়ে অকৃতকার্য ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শুভ ও ছয় বিষয়ে অকৃতকার্য সাইদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে ফরমপূরণ করানো হয়েছে। অকৃতকার্য সকল শিক্ষার্থীকে ফরমপূরণ করানোর দাবি তোলেন তারা।
 
পরশুরাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, তিন বিষয়ের অধিক অকৃতকার্য কোন শিক্ষার্থীকে ফরমপূরণ করানো হয়নি। পড়ালেখার মান বাড়াতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোন ছাড় দেবে না। অতীতের মত পরীক্ষার ফলাফলে ধস নামুক সেটি আমরা আর চাই না। যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেভাবেই ফরমপূরণ হবে।
 
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে গেটের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের নীতিমালা অনুযায়ী ফরমপূরণ কার্যক্রম চলবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পরশুরাম সরকারি কলেজে পাসের হার ছিল ১৬ শতাংশ। শিক্ষার মান ও পরীক্ষায় পাসের হার বাড়াতে কর্তৃপক্ষ কলেজে স্মার্ট ফোন ব্যবহার, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেন।