পরশুরামে রোগীদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপুল পরিমাণ ওষুধ সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে পরশুরাম পৌরসভার বাউরখুমা কমিউনিটি ক্লিনিকের উত্তর পাশে বিলোনিয়া সড়কে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। এরমধ্যে বেশিরভাগ ওষুধ মেটফরিন ৫০০ এমজির ট্যাবলেটের পাতা। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী সেখানে ভিড় জমান।

‎বাউরখুমা গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক সৌরভ হোসেন জানান, ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য গেলে প্রায়ই ওষুধ নেই বলে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সেই ওষুধই এভাবে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওষুধগুলোর মেয়াদ রয়েছে। ফেলে দেওয়া ওষুধের দাম প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা মূল্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। এগুলো ডায়াবেটিস নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে গ্রামীণ জনগণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের মাধ্যমে ইপিআই টিকা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং সাধারণ রোগীদের ওষুধসহ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সরকারিভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ২৪ ধরনের ওষুধ প্রদান করা হয়। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ওষুধগুলো গ্রহণ ও বিতরণ করেন।

‎এ বিষয়ে কথা বলতে বাউরখুমা কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার শারমিন মমতাজের সাথে মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

‎এদিকে এ ঘটনার পর বিষয়টি যথাযথ তদন্ত করতে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনেস্থিসিয়া কনসালটেন্ট সহকারী অধ্যাপক ডা: আবুল হাসেম বাদলকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

‎পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। ওষুধগুলো সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি ক্লিনিকের কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়ার পরে কর্তৃপক্ষের কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হবে।