পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কে একটি নতুন সেতু নির্মাণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেতু নির্মাণে প্রস্তাবিত স্থানের সয়েল টেস্ট ও ভূ-জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুহুরী নদীর উপর নির্মিত স্টিলের সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ সেতু দিয়ে চলাচল করেন মির্জানগর ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। মানুষের কাছে মুহুরী সেতু যেন এক আতঙ্কের নাম। এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণে দীর্ঘদিনের দাবি এলাকাবাসীর। সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে আরসি গার্ডার সেতু নির্মাণে একটি প্রস্তাবনা পাঠানোর পর ২০২৫ সালের ৪ মে ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রাথমিক সয়েল টেস্ট ও ডিজিটাল ভূসংস্থান জরিপ কাজের জন্য অনুমোদন দেয় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। বর্তমান মুহুরী নদীর উত্তরে বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশে ১২০ মিটার দৈর্ঘ্যে ও ৭.৩ মিটার প্রশস্ত আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। যেখানে নতুন করে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেখানে মুহুরী নদীর দুইপাশে ১৯৯১ সালে সরকারের অধিগ্রহণ করা প্রায় ২০০ ফুটের অধিক জায়গা রয়েছে। প্রকল্পের পরিচালক আমিনুর রশিদ চৌধুরীর গত বছর প্রস্তাবিত স্থানটি পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ অঞ্চলের মানুষের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য মুহুরী নদীর উপর প্রায় ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্টিল ব্রিজ নির্মাণ করেন। এরপর থেকে পরশুরাম উপজেলার উত্তর পশ্চিমের জনপদ মির্জানগরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। ৩০ বছর ধরে মেরামত করে করেই জীবনঝুঁকি নিয়ে এ ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করছেন মানুষ। ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে লোহার পাত ভেঙে উঠে গেছে। সেসব স্থান চিহ্নিত করে কেবল বস্তা, লাঠি ও কাপড়ের টুকরা দিয়ে সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে। এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ দূর হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো বেশি উন্নত হবে।

পূর্ব সাহেবনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, সেতুটির পিলার নড়বড়ে হয়ে গেছে। পাটাতন খুলে পড়ে যাচ্ছে। সেতুর উপর দিয়ে পারাপারের সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। প্রায় সময় এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হবে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহনেওয়াজ খান বিপুল জানান, সেতু নির্মাণে প্রস্তাবনা পাঠানোর পর সয়েল টেস্ট ও ভূ-জরিপ সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ওবায়দুল বাশার বলেন, সেতুটির ডিজাইন ও প্রাক্কলন ব্যয় তৈরি করার পর প্রকল্পটি অনুমোদন হলে দরপত্রের মাধ্যমে নতুন সেতু নির্মাণে কাজ শুরু করা হবে।